অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির (Priya Ranjan Dasmunsi) খাসতালুক বলে পরিচিত কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেসের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। এবারের নির্বাচনেও এই গড়ে কংগ্রেস প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় দলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটের দিন খোদ দিল্লি থেকে এসে প্রিয়-জায়া দীপা দাশমুন্সি ও পুত্র মিছিল দাশমুন্সি ভোট দিয়েও দলের ভরাডুবি রুখতে পারেননি। স্থানীয় জনমানসের মতে, কালিয়াগঞ্জ (Kaliyaganj) থেকে কংগ্রেস (Congress) চিরতরে মুছে যাবে কি না, তা এখন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
কংগ্রেস নেতা তুলসী জয়সওয়ালের দাবি, এবার মূলত দলীয় কর্মী ও একনিষ্ঠ সমর্থকদের ভোটই পেয়েছে কংগ্রেস। তৃণমূল বিরোধী হাওয়ায় সাধারণ ভোটাররা মূলত বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ায় কংগ্রেসের ভোটপ্রাপ্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কালিয়াগঞ্জ আসনে কংগ্রেস প্রার্থী গিরিধারী প্রামাণিক পেয়েছেন মাত্র ৪,৭৪৭টি ভোট।
শেষবার ২০১৬ সালে এখানে বাম-কংগ্রেস জোটের বিধায়ক হয়েছিলেন প্রয়াত প্রমথনাথ রায়। ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেসের ভোটব্যাংকে ধস নামে। ওই বছর উপনির্বাচনে প্রমথ-কন্যা ধীতশ্রী রায় ১৮,৮৫৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যান। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী প্রভাস সরকার ১৬,৭৭০ ভোট পান। প্রদত্ত ভোট পরিসংখ্যানের দিক থেকে সেই সময় জামানত বাজেয়াপ্ত হয় প্রভাসের। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কংগ্রেস প্রার্থী গিরিধারী প্রামাণিকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অনুপাতে জামানত বাজেয়াপ্ত হল হাত শিবিরের।
ব্যর্থতার দায় কিছুটা পরোক্ষভাবে দলের নেতৃত্বের ওপরেই চাপিয়েছেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনের কালিয়াগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী গিরিধারী প্রামাণিক। আক্ষেপের সুরে গিরিধারী বলেন, ‘দীপা দাশমুন্সি আমাদের দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছেন ঠিকই। কিন্তু প্রার্থীর সমর্থনে কোনও প্রকাশ্য জনসভা করেননি।
উনি যদি কোনও জনসভা করতেন তাহলে ভোটারদের মনে প্রিয়দার আবেগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত বলে আমার বিশ্বাস। তবে ২০২৯ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার গঠন হলে কালিয়াগঞ্জের মানুষ আবার হাত চিহ্নকেই ভরসা করে ফিরিয়ে আনবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দেখা গিয়েছিল শহর কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিককে নিগ্রহের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিন কংগ্রেস সমর্থক। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার চালালেও তা জনমানসে যে আদৌ সাড়া ফেলেনি তা ভোটের ফলাফলেই বুঝে গিয়েছে প্রিয় ভূমির কংগ্রেস। তাই প্রিয়র গড়ে কংগ্রেসের এই বিপর্যয় এখন জেলার রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
