বর্ধমান: ফলের ডালা সাজিয়ে বসতেন হাটে, কিন্তু লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করা। ফলের ব্যবসার আড়ালে দিনের পর দিন রমরমিয়ে ‘জাল লটারি’ (Pretend Lottery) বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল পূর্ব বর্ধমান জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (DEB)। ধৃতের নাম গদাই বালা, বাড়ি মেমারি থানা এলাকায়। শনিবার দুপুরে জামালপুর হাটে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা।
এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অফিসাররা জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর ছিল যে জামালপুর গঞ্জ বারোয়ারি পরিচালিত হাটে ফলের ব্যবসার আড়ালে বড়সড় জাল লটারির চক্র চলছে। শনিবার দুপুরে আকস্মিক হানা দিয়ে গদাই বালার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ জাল লটারি টিকিট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই সব টিকিটের বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গদাই বালা এই জাল লটারি বিক্রির একটি সক্রিয় চক্র পরিচালনা করতেন।
জামালপুরের লটারি সাব-স্টকিস্ট পার্থ রায়ের দাবি, এই গদাই বালা দীর্ঘদিন ধরে হাটে বসে প্রকাশ্যেই এই কারবার চালাচ্ছিলেন। পার্থবাবু বলেন, “আমি বারবার তাঁকে এই বেআইনি কাজ বন্ধ করতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি তোয়াক্কা করেননি। উল্টে দর্পের সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলতেন, কেউ তাঁর কিছু করতে পারবে না। এমনকি তাঁর সঙ্গে আরও ৫০ জন এই চক্রে যুক্ত আছে বলেও তিনি দাবি করতেন।” শেষমেশ উপায় না দেখে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন বৈধ লটারি ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি রায়না ও জামালপুর এলাকায় সিআইডি অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও এই চক্র পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক অফিসারের মতে, গদাই বালাকে জেরা করলে এই বড়সড় জালিয়াত চক্রের বাকিদের হদিস মিলবে। রবিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে এবং চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের আবেদন জানানো হবে।
