কবিতা

কবিতা

শিক্ষা
Spread the love


জরথুষ্ট্র

অসীম শর্মা 

একদিন দুঃখ ফুরিয়ে দেব

হাঁটব আলাদা রাস্তায়

ওপাড়ার দিকে যাব না আর

সেতুতে দাঁড়াব না বোকার মতো চেয়ে

বই প্রকাশের মিথ্যে স্তুতির ভিড়ে কিছুক্ষণ লাস্ট বেঞ্চার হয়ে

বসে থেকেছি তোর আশায় কতদিন একা একা

বই বাগানের অস্ফুট আলো

আমাকে অন্ধ রেখেছিল

নীল চেয়ারটা আমাকে এগিয়ে দিস, আমি বসব।

সবুজ জামাটা পরে আয়, যাবার আগে একবার দেখি

হাড় থেকে মাংস খসে যাবার আগে একবার জড়িয়ে ধরতে চেয়েছি শুধু

ঘুমিয়ে পড়েছে আজ মৃত ইতিহাস।

আমাদের ঈর্ষার কাঁটা জ্ব’লে, রক্ত ঝরে সারারাত

বিনিদ্র রাতের কাছে নেশাতুর যৌন প্রস্তাব পাঠাই-

নগ্ন বুকের ওপর ফণা রেখে ঘুমিয়েছে উজ্জ্বল রঙের এক সাপ

আকাশে ঘূর্ণায়মান যত তারা

কাছাকাছি

সুব্রতা ঘোষ রায়

বুঝিনি তুমি ছিলে আমারই কাছাকাছি,

খুঁজেছি কত রাত দিন ধরে…

খুঁজেছি পথে পথে, অচেনা প্রান্তরে-

অজানা নগরে ও বন্দরে।

নৌকো ছিঁড়ে কাছি, হলুদ নদী জল…

উজিয়ে চলে নামহীন দেশে-

ভেবেছি হয়তো বা তোমার দেখা পাব-

সেখানে অস্থির দিনশেষে!

ক্লান্ত রাত নামে, তবু কি চলা থামে?

আকাশ যদি কারো সন্ধানে…

কখনো চিঠি লেখে যদি বা নীল খামে-

সে চিঠি লেখা হবে কার নামে?

এমনি করে কত দিন যে চলে যায়…

রাতের পাখি ফেরে ডানা মেলে-

আমিও ফিরে দেখি আমারই উঠোনেই

দাঁড়িয়ে আছ তুমি সব ফেলে!

খালি হাত 

অমিতাভ চক্রবর্তী

হাত জানে— ধরা,

হাত জানে— ছেড়ে দেওয়া।

এক মুঠোয় স্লোগানের লাল,

অন্য তালুতে শিশিরের ঠান্ডা।

কখনো আশীর্বাদের ভঙ্গি,

কখনো মুঠো হয়ে ওঠা দাবি—

এই দুইয়ের মাঝখানে

সবচেয়ে কঠিন ভঙ্গি:

খালি হাত।

খালি হাতেই জায়গা থাকে

আরেকটা হাতের জন্য।

বিপ্লব ও আরাবল্লী

মৃড়নাথ চক্রবর্তী

তোমার পেটে কান পেতে হে ধরিত্রী–

আসন্ন বিপ্লবের প্রবল গর্জন শোনার শক্তি আমায় দাও;

অথবা আমায় টুকরো টুকরো করে পুঁতে ফেল

তোমার যোনিগর্ভে, আমার আত্মবিস্মৃতি যেন

আমার আত্মার প্রতিচ্ছবিতে ধরা না পড়ে

যেভাবে ক্ষমতার মানুষ ঠিক করে ফেলে জনতার ভাগ্য;

অথবা উলটোটা, সেভাবেই আমায় শক্তি দাও

আমি যেন আরাবল্লী হয়ে যাই মধ্যমায় ভর করে।

The put up কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *