রণবীর দেব অধিকারী, ইটাহার: হিন্দু ভোটে কার কোপ? ইটাহারে (Itahar) প্রায় জেতা বাজি হেরে যাওয়ার মতো ফলাফলের পর গেরুয়া শিবিরজুড়ে এখন শুধু এই প্রশ্নই ভাসছে। তিন প্রধান দলের প্রার্থীর ভোট পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে স্পষ্ট, ভোট কাটাকাটির অঙ্কই বিজেপি প্রার্থী সবিতা বর্মনের ‘বাড়া ভাতে ছাই’ দিয়েছে। পাশাপাশি, ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী অমল আচার্যর ‘জোড়া ফলা অপারেশন’। পরিকল্পনা মতো কোনও ফুলের ঘরেই তেমন বড় সিঁধ কাটতে পারেননি বর্ষীয়ান এই নেতা।
এসআইআর (SIR) পরবর্তী ইটাহারে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা বাড়ায় জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু ফল বেরোনোর পর পদ্ম শিবির টের পেয়েছে, ইটাহারে হিন্দু ভোটকে এখনও একজোট করা যায়নি। প্রশ্ন উঠছে, ইটাহারে কে থামাল পদ্ম শিবিরের অশ্বমেধের ঘোড়া? নেপথ্যে কি কংগ্রেসের হাত? পদ্ম শিবিরের নেতারা অনেকে তেমনটাই মনে করছেন। তাঁদের মতে, মেরুকরণের হাওয়ায় মুসলিম ভোট একজোট হয়ে তৃণমূলে পড়েছে। তবে ৩০ শতাংশ হিন্দু ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে বিজেপিকে।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) হিসাব অনুযায়ী, ইটাহারে ২ লক্ষ ২ হাজার ৮৮ জন ভোট দিয়েছেন। তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী মোশারফ হুসেন ৯৮,১৭২টি ভোট পেয়েছেন। বাকি তিন প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজেপির সবিতা ৭০,২৯৪টি ভোট, কংগ্রেস প্রার্থী অমল ২৮,০৪৫টি এবং সিপিআই প্রার্থী উৎপল দাস পেয়েছেন ৩,০১৫টি ভোট। বিজেপির দাবি, মোট যত মানুষ ভোট দিয়েছেন তার প্রায় ১ লক্ষ ২ হাজার ভোটার হিন্দু। বাকি ১ লক্ষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। এই হিসেবে বিজেপির চাল সফল হলে সবিতার জিতে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। তাহলে বাকি ৩০ হাজারের কিছু বেশি হিন্দু ভোট গেল কোথায়? সবিতার দাবি, ‘অমল আমাদের প্রায় ২০-২২ হাজার হিন্দু ভোট কেটেছেন। অন্যদিকে, তিনি যতটা মুসলিম ভোট কাটবেন বলে শোনা যাচ্ছিল, তা হয়নি। তাই এই ফল।’ বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার একমত।
এদিকে, ইটাহারের রাজনীতির ‘চাণক্য’ অমলও জয় পাননি। এমনকি, পারলেন না তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হুসেনকে পরাস্ত করে ‘প্ল্যান-বি’ সফল করতে। তৃণমূল ও বিজেপির সঙ্গে ঘর করে আসা অমলকে এবার ইটাহারে প্রার্থী করেছিলেন কংগ্রেসের ভোট ম্যানেজাররা। তঁারা মুখে মুখে অঙ্ক কষছিলেন, তৃণমূল থেকে মুসলিম ভোটের ৪০ শতাংশ আর বিজেপির ঘর থেকে হিন্দু ভোটের ৪০ শতাংশ কেটে নিলেই কেল্লা ফতে। কিন্তু কংগ্রেস ও বিজেপির সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে পুনরায় ইটাহার কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ।
যদিও কংগ্রেসের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক বলেন, ‘অমলদার প্রাপ্ত ভোটের অধিকাংশ সংখ্যালঘু মানুষের। কিন্তু আমরা আশা মতো সমর্থন পাইনি। হিন্দু ভোটও আমাদের ঘরে সেভাবে আসেনি। তাই এই পরাজয়।’ তবে অমল নিজে মনে করছেন, তাঁর প্রাপ্ত ২৮ হাজার ভোটের মধ্যে হিন্দু-মুসলিমের অনুপাত সমান। জল্পনা, হিন্দু ভোটে থাবা বসিয়েছেন তৃণমূলের মোশারফ হুসেন। এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে বিজেপিকে।
