Kaliaganj Human Trafficking | ভিনরাজ্যে পাচার করে গণধর্ষণ ও বিক্রির অভিযোগ! পুলিশের ওপর ভরসা হারিয়ে আদালতের দারস্থ নাবালিকা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


রায়গঞ্জ: পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ভরসা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হলেন এক ষোলো বছরের গণধর্ষণের শিকার নাবালিকা ও তাঁর পরিবার। উত্তরপ্রদেশে পাচার করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে লাগাতার গণধর্ষণ এবং পরবর্তীতে পতিতা পল্লীতে বিক্রির মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কালিয়াগঞ্জ থানা (Kaliaganj Human Trafficking) এলাকার দুই যুবকের বিরুদ্ধে। বিচারকের কাছে নির্যাতিতা নিজেই সমস্ত ঘটনা জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের হস্তক্ষেপে কালিয়াগঞ্জ থানাকে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ মে ২০২৬ তারিখে ওই নাবালিকা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এই ঘটনায় নাবালিকার মা কালিয়াগঞ্জ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ তিন মাস পর উত্তরপ্রদেশ থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। এরপরেই মেয়ের মুখে ভয়ানক সত্য সামনে আসে। নির্যাতিতা জানায়, জাহাঙ্গীর আলম ও হায়দার আলী নামের দুই যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে দিল্লির ট্রেনে করে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যায়। সেখানে বিহারের বারसोई থানার এলাকার আরও এক নাবালিকাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন গণধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, প্রায় এক মাস নির্যাতনের পর তাদের উত্তরপ্রদেশের একটি যৌনপল্লীতে বা পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, মেয়েকে উদ্ধার করার পর কালিয়াগঞ্জ থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। চলতি মাসের ২০ তারিখে বাধ্য হয়ে উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সুরাহা না মেলায় পুলিশের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে রবিবার আদালত চত্বরে পৌঁছান নির্যাতিতা ও তাঁর মা। বিচারক সমস্ত অভিযোগ শুনে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিককে অবিলম্বে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

নাবালিকার মায়ের অভিযোগ, ধৃতরা এর আগেও গ্রামের একাধিক নাবালিকা ও বধূকে প্রলোভন দেখিয়ে ভিনরাজ্যে পাচার করেছে। তাঁরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এই বিষয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডা. সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নির্যাতিতার আইনজীবী পলাশ রঞ্জন দাস ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলা নিতে চাইছে না, এর পেছনে কোনো রফা থাকতে পারে। তবে তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং এর শেষ দেখে ছাড়বেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *