Kali Puja 2026 | চোরবাগানের শিক্ষা থেকে কড়া পদক্ষেপ কালিয়াগঞ্জে, কালীপুজোয় ভূতের থিমে নিষেধাজ্ঞা জারি 

শিক্ষা
Spread the love


অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: কালীপুজো হবে, কিন্তু কালিয়াগঞ্জে (Kaliyaganj) কালীপুজোয় (Kali Puja 2026) থাকবে না কোনও ভূত। এ বছর মণ্ডপে ভূত-প্রেত রাখা যাবে না, এমনই কড়া নির্দেশ পুলিশ প্রশাসনের। দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতেই এমন সিদ্ধান্ত। ভূত-প্রেতের বাইরে অন্য কোনও থিম করার প্রশাসনিক নির্দেশে সমস্যায় পড়েছে কম বাজেটের পুজো কমিটিগুলি। কালীপুজোর সময় দর্শনার্থীদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয় এবং দুর্ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারলেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশের (Police) তরফে।

এ বছর দুর্গাপুজোয় শহরের প্রতিভা সংঘ প্রায় ৩০ বিঘা জঙ্গলের মধ্যে আলো-আঁধারের খেলায় জীবন্ত মডেল ভূতেদের নিয়ে ‘হান্টেড ফরেস্ট’ গড়ে তুলেছিল৷ বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গা তো বটেই, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুরের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকেও মানুষ ছুটে এসেছিলেন। কয়েক লক্ষ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল প্রতিভা সংঘের মাঠে। ভিড় সামলাতে মাঠে নামতে হয় পুলিশ কর্তাদের। অষ্টমীর দিন এবং নবমীর দিন কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় সামলাতে না পেরে বিপদের আশঙ্কায় প্রশাসনের নির্দেশে মাঝপথেই ‘হান্টেড ফরেস্ট’ দর্শন বন্ধ করে দেয় উদ্যোক্তারা। ওই ক্লাবের অন্যতম সদস্য গৌরাঙ্গ দাসের কথায়, ‘আশা ছিল দুই-আড়াই লক্ষ দর্শনার্থীর। কিন্তু প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল। জেলা ও স্থানীয় স্তরের পুলিশ কর্তারা সহযোগিতা না করলে আরেকটি চোরবাগান হয়ে যেতে পারত।’ এখানকার পুজোর রেশ টেনে কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা প্রণব দাস বললেন, ‘রাত্রি দেড়টায় আমরা হান্টেড ফরেস্ট দেখব বলে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু যা পরিস্থিতি দেখলাম, তাতে চাচা আপন প্রাণ বাঁচা-র মতো অবস্থা। কপাল ভালো যে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি৷ ঘটলে চোরবাগানকে ছাপিয়ে যেত হান্টেড ফরেস্ট।’

কালীপুজোয় ভূত-কেন্দ্রিক থিমের উদ্যোগ নিয়েছিল দু’-একটি ছোট ক্লাব। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশে সমস্যায় পড়তে হয়েছে ক্লাবগুলিকে। চিড়াইলপাড়ার একটি ক্লাবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বিষণ্নতার সুরে বলেন, ‘কালীপুজোয় অল্প টাকায় আমরা এবার ভূতের রাজ্য তৈরির পরিকল্পনা করেছিলাম৷ কিন্তু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ভিড়ের কথা চিন্তা করে ভূত নিয়ে কোনও থিম করতে দেবে না৷ তাই এই অল্প সময়ে অন্য কোনও থিমের কথা ভাবতে হচ্ছে আমাদের।’ কালিয়াগঞ্জের কলেজ ছাত্রী তনিমা সাহা অবশ্য মনে করেন, ‘ভিড়ে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত। শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করলেই হবে না, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা উচিত। প্রয়োজনবোধে বিগ বাজেটের পুজোগুলির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের মহিলাদের জন্য আলাদা লাইন করা উচিত। এতে মহিলারাও নিশ্চিন্তে পুজো উপভোগ করতে পারবে৷’

কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ কর্তা অভিজিৎ দত্তের কড়া হুশিয়ারি, ‘ভূত-প্রেত সহ এমন কোনও আকর্ষণীয় থিম করা যাবে না, যেখানে পুজো মণ্ডপে জায়গার অভাব রয়েছে। কালীপুজো দেখতে এসে দর্শনার্থীরা যাতে ভিড়ের চাপে কোনও রকম দুর্ঘটনার শিকার না হন, সেদিকে প্রতিটি পুজো কমিটিকে নজর রাখতে হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *