জলপাইগুড়ি: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের ঠিক প্রাক্কালে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের (Tea Backyard PF Rip-off) কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও জমা না দেওয়ার অভিযোগে দুটি চা বাগানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফাণ্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক দপ্তরের পক্ষ থেকে বানারহাট থানায় কারবালা এবং বানারহাট—এই দুটি চা বাগানের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সংস্থার মালিকানাধীন এই দুই চা বাগানের বিরুদ্ধে এহেন আইনি পদক্ষেপে চা বলয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ইপিএফও’র জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক দপ্তরের কমিশনার পবন কুমার বনসল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই চা বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বা মাসিক মজুরি থেকে নিয়মিত পিএফের টাকা কেটে নিলেও তা নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা করছিলেন না। দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কারবালা চা বাগানে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত শ্রমিকদের পিএফের কাটা টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৪৪ টাকা। অন্যদিকে, বানারহাট চা বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে বকেয়া বা জমা না দেওয়া এই টাকার অঙ্ক প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৩৯ টাকা।
শ্রমিকদের এই বিপুল পরিমাণ পিএফের অর্থ নয়ছয়ের বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি পিএফ দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট অফিসার অমিত কুমার গুপ্তা এবং শ্রম দপ্তরের অতিরিক্ত শ্রম আধিকারিক রাতুল ভট্টাচার্য যৌথভাবে ওই দুটি চা বাগান পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে বাগানের নথিপত্র ও হিসাব খতিয়ে দেখার পরই কোটি কোটি টাকার এই পিএফ জালিয়াতির বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়। এরপরই কালক্ষেপ না করে বানারহাট থানায় দুই চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পিএফ কমিশনার পবন কুমার বনসল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এর পরেও যদি বকেয়া অর্থ জমা না দেওয়া হয়, তবে ওই দুই বাগানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকা আত্মসাৎ রুখতে চলতি বছরে এই নিয়ে মোট নয়টি চা বাগানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল ইপিএফও কর্তৃপক্ষ।

