জলপাইগুড়ি: থানা মোড়ের গ্যাস এজেন্সির অফিসের শাটার নামানো। সামনে একটি নোটিস ঝোলানো। তাতে লেখা— এদিন গ্যাসের গাড়ি না আসায় সমস্ত কাজ বন্ধ থাকবে। তবুও বন্ধ অফিসের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেন বেশ কিছু গ্রাহক। মনে আশা— এই বুঝি গাড়ি আসবে। তাঁরা সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু, সময় যত এগোল, বিষয়টি পরিষ্কার হল। গাড়িও এল না, অফিসও খুলল না। শেষ অবধি খালি হাতে ফিরতে হল গ্রাহকদের। গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে ফের ভোগান্তির মুখে পড়লেন শহরের গ্রাহকরা।
এই ব্যাপারে এজেন্সির অ্যাকাউন্টের দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত সরকার বলেন, ‘আমরা যতটা পারছি, যেভাবে গাড়ি আসছে, সেভাবেই গ্রাহকদের পরিষেবা দিয়ে চলেছি। তবে, সমস্যাটা শুধু থানা মোড়ের আমাদের এজেন্সির নয়, প্রতিটি জায়গার পরিস্থিতি প্রায় একই।’ তবে, অন্যান্য ডিলারদের দাবি, ‘গ্রাহকদের গ্যাস সিলিন্ডার পেতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।’
গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে থানা মোড় সংলগ্ন এজেন্সির অফিসের সামনে পথ অবরোধ নতুন ঘটনা নয়। গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারির অভিযোগে বেশ কয়েকবার এই রাস্তায় অবরোধ হয়েছে। এর পাশাপাশি, বুকিং বাতিল, স্লিপ কেটেও গ্যাস না পাওয়ার মতো ঘটনায় এজেন্সির অফিসের দিকে আঙুল তুলেছিলেন সাধারণ মানুষ। সোমবারও দেখা গেল পুনরাবৃত্তি। বাবুপাড়ার বাসিন্দা সংগীতা কামতি এজেন্সির অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় খালি হওয়ার অবস্থায়। এই গ্যাস এজেন্সিতে সমস্যা লেগেই থাকে। অন্য কোথাও সমস্যা নেই। কেন এই এজেন্সিতে গ্যাস সিলিন্ডার আসে না, বুঝতে পারি না।’
অন্যদিকে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্ধ শাটারের সামনে বসেছিলেন ওয়াকরগঞ্জের বাসিন্দা মালতী রায়। গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে টোটো ডেকে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি। ফিরে যাওয়ার আগে তাঁর মন্তব্য, ‘এর আগে বুকিং করেছিলাম। সেটা বাতিল হয়েছে। ফের বুকিং করলাম। সেটারও প্রায় ২০ দিন হতে চলল। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার পাব কি না, জানি না। অফিসে এসে দেখি তালাবন্ধ। এই এজেন্সির গ্যাস নিয়ে ভুল করেছি।’
সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়ি আসেনি। তা শনিবার এসেছে। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, ১টি করে গাড়ি প্রতিদিন এলে এই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়ি অনিয়মিতভাবে আসায় সমস্যা হচ্ছে। কখনও ছোট গাড়ি আসছে।

