Jalpaiguri Municipality | হামলা-প্রশাসনিক জটে ভেস্তে গেল বৈঠক, বিশবাঁও জলে জলপাইগুড়ি পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ!

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


জলপাইগুড়ি: শনিবার জলপাইগুড়ি পুরসভায় (Jalpaiguri Municipality) নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে যে বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠক স্থগিত রাখার নির্দেশ আসার পাশাপাশি কাউন্সিলারদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠায় বৈঠক সম্পূর্ণ পণ্ড হয়ে যায় (Board Formation Dispute)। ফলে আপাতত বিশবাঁও জলে জলপাইগুড়ি পুরসভার বোর্ড গঠন এবং পুরপ্রধান নির্বাচন।

জলপাইগুড়ি পুরবোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালমাটাল অবস্থা চলছে। মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলারদের (TMC Councillors) অনাস্থার জেরে পদত্যাগ করেন পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁদের বোর্ড গঠনের আগেই মহুকুমা শাসক মঈন আহমেদকে পুরসভায় প্রশাসক হিসেবে বসায় রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন কাউন্সিলাররা। আদালত পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। তারপর থেকেই ফের নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে মমতাপন্থী কাউন্সিলাররা। ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ বোর্ড গঠনের বৈঠক ডাকা হয়েছিল পুরসভায়। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকেই শহরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, চারজন কাউন্সিলারের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং ভাঙচুর করা হয়। বিশেষ করে পুরপ্রধান পদের অন্যতম দাবিদার তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে কয়েক রাউণ্ড গুলি চালানোর অভিযোগ সামনে আসে। মধ্যরাতের এই তাণ্ডবে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় হাজির হন ১২ জন কাউন্সিলার। তাঁদের মধ্যে চারজন ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই হামলার পেছনে বিরোধী বিজেপির পাশাপাশি দলেরই অন্য একটি অংশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত কাউন্সিলররা। সেই সঙ্গে নাম না করে প্রাক্তন পুরপ্রধান সৈকতের দিকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে কাউন্সিলারদের দাবি, তাঁরা পুরসভায় যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুরসভার গেট  বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ায় পুরসভায় যেতে পারেননি বলে অভিযোগ কাউন্সিলারদের। এরই মধ্যে মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চিঠি পাঠিয়ে এই বৈঠক না করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাকে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক বলে তোপ দেগেছেন ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা। পুরো ঘটনায় তাঁরা ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।

যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পালটা কটাক্ষ করেছে। এদিন জলপাইগুড়িতে এসে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বিজেপি গুন্ডা নিয়ে কাজ করে না, আশ্রয়ও দেয় না। কারা আশ্রয় দিত, তা প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে।’ অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী গোস্বামীর কটাক্ষ, ‘আজ যারা সাধু সাজছেন, তাঁরাই ২০২২ সালে রিগিং, ছাপ্পা করে পুরবোর্ড দখল করেছেন, ভুরিভুরি দুর্নীতি করেছেন। কারা হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করুক।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *