Malda Mangoes | দিল্লির উৎসবে মালদার ২৪ টন আম, থাকবে বাংলার তাঁতের শাড়িও

Malda Mangoes | দিল্লির উৎসবে মালদার ২৪ টন আম, থাকবে বাংলার তাঁতের শাড়িও

শিক্ষা
Spread the love


নিউজ ব্যুরো: বাংলায় সরকার বদলের আবহে রাজধানী দিল্লিতেও বদলে যাচ্ছে বহু চেনা সাংস্কৃতিক আয়োজনের ঠিকানাও। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল বহু প্রতীক্ষিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বার্ষিক আম উৎসব। বাঙালিয়ানার আবহ আরও শক্তিশালী করা, দিল্লিতে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাঙালির কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং বাংলার কৃষি ও হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ বছর থেকে আম উৎসবের নতুন ঠিকানা হচ্ছে বাঙালি অধ্যুষিত চিত্তরঞ্জন পার্ক। আগামী ২০ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত বঙ্গীয় সমাজের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ উৎসব। এত বছর ধরে এই অনুষ্ঠানটি জনপথের হ্যান্ডলুম হাটে অনুষ্ঠিত হত।

এই মেলায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি আনা হবে প্রাকৃতিক উপায়ে পাকা, কার্বাইডমুক্ত ও সম্পূর্ণ তাজা আম। আর আমের ‘রাজধানী’ বলতে মালদাকেই বোঝায় (Malda Mangoes)। সেই মেলার জন্য ইতিমধ্যেই মালদা থেকে ২৪ হাজার ১১০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। এনিয়ে মালদা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘গতবারের থেকে  দ্বিগুণ পরিমাণ আম এবছর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে আমসত্ত্ব, আচার সহ বিভিন্ন আমের পণ্য। ফরাক্কা এক্সপ্রেসে করে শুক্রবার আম ও আমের তৈরি জিনিস দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। মেলায় অংশ নিতে জেলার কয়েকজন আমচাষি ও উদ্যোক্তাও সঙ্গে গিয়েছেন।

প্রায় ২৪ টন আম কিন্তু একবারে পাঠানো হবে না। উদ্যানপালন দপ্তরের অধিকর্তা সমন্ত লায়েক বললেন, ‘মেলা চলাকালীন একদিন অন্তর করে পাঠানো হবে হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, লক্ষ্মণভোগ, রাখালভোগ, ফজলি, কিষানভোগ, মল্লিকা, গোলাপখাস ও আম্রপালির মতো জনপ্রিয় আম।’ এদিকে মেলায় অংশ নিতে যাওয়া মানিকচকের আমচাষি পবনকুমার মণ্ডল বলেন, ‘দিল্লির মেলায় মালদার আমের কদর বরাবরই রয়েছে। বিশেষ করে হিমসাগর ও লক্ষ্মণভোগের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আশা করছি, এবারও ভালো বিক্রি হবে।’

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি মালদা জেলা প্রশাসন আমার মালদা নামে যে ব্র্যান্ডিং শুরু করেছে, সেই ব্র্যান্ডকে সামনে রেখেই এবার দিল্লিতে মেলা হচ্ছে।’

শুধু আম নয়, উৎসব প্রাঙ্গণে তৈরি হবে এক টুকরো বাংলা। পশ্চিমবঙ্গের হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্পের বিশেষ স্টলও থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য। বাংলার তাঁতের শাড়ি, হস্তনির্মিত শিল্পসামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং গ্রামীণ শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী রাজধানীবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। দিল্লিতে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাতেই চিত্তরঞ্জন পার্ককে বেছে নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক  ‘মিনি কলকাতা’ বলেই বিখ্যাত। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাদ্য উৎসব এবং বাঙালি সামাজিক পরিসরের অন্যতম কেন্দ্র এই এলাকা। সেই কারণে আম উৎসবের নতুন ঠিকানা হিসেবে এই অঞ্চলকে বেছে নেওয়া কার্যত একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকারি মতে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করবে, তেমনই রাজধানীতে বাংলার ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও শক্তিশালী করবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *