উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃতির নিষ্ঠুর কোপে ফের বিপর্যস্ত জাপান (Japan)। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক দ্বীপে সজোরে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ (Storm Dolphin Japan)। এই ভয়াবহ ঝড়ের জেরে ওকিনাওয়ার প্রধান বিমানবন্দর আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দ্বীপটিতে আসা-যাওয়ার সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের আগাম পূর্বাভাস মেলায় আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দ্বীপের শত শত মানুষকে।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই শক্তিশালী টাইফুনের মূল অবস্থান ছিল ওকিনাওয়ার ঠিক উত্তর দিকে। সেই সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছেছিল ঘণ্টায় ৮৯ মাইল বা প্রায় ১৪৩ কিলোমিটারে। ওকিনাওয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে চলতি সপ্তাহের রবিবার পর্যন্ত লাগাতার ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে।
দুর্যোগের এই চরম পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। আবহবিদদের অনুমান, সপ্তাহান্তের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা শক্তি হারিয়ে দুর্বল হতে পারে এবং এরপর সেটি চিনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী সোমবার সকালে চিনের ভূখণ্ডে এটি পুনরায় আছড়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, টাইফুনের সরাসরি প্রভাবে ইতিমধ্যে তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। বাতিল হয়েছে অন্তত ৫০০টি উড়ান। ওকিনাওয়ার পাশাপাশি এই ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকাতেও। বিশেষ করে, গত সপ্তাহেই ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠেছিল ওই এলাকা। সেই বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিলেন এবং এখনও ত্রাণশিবিরে অন্তত ৬,৭০০ মানুষ দিন কাটাচ্ছেন। ভূমিকম্পের ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে টাইফুনের আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রাকৃতিক এই জোড়া ফলার আঘাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

