উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পূর্ব ঘোষণা মতো সোমবার নতুন দল ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (MLA Humayun Kabir)। দল ঘোষণার পাশাপাশি প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্রেই বালিগঞ্জ থেকে প্রার্থী করা করেছিলেন নিশা চট্টোপাধ্যায়কে (Nisha Chatterjee)। এদিকে তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পেরনোর আগেই বদলে গেল বালিগগঞ্জের প্রার্থী! ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র তরফে হুমায়ুন কবীর সাফ জানালেন, ‘বালিগঞ্জ থেকে লড়বেন মুসলিম প্রার্থী। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সকলে তাঁর নাম জানাবেন।’
বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গতকাল ১০ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন তিনি। যেই তালিকায় খোদ হুমায়ুনের নাম ছিল দুটি কেন্দ্রে। শুধু তাই নয় নাম ছিল হিন্দু প্রার্থী নিশা চট্টোপাধ্যায়য়ের। মঙ্গলবার সকালে হুমায়ুন জানিয়ে দিলেন, নিশাকে বালিগঞ্জের প্রার্থী করা হচ্ছে না। কেন এমন সিদ্ধান্ত? সে প্রসঙ্গে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, গতকাল প্রার্থী হিসেবে নিশার নাম ঘোষণা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যা দেখে অনেকেই ওর ব্যক্তিগত জীবন, চলাফেরা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। যদিও আমি নিশার সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতাম না। আমি শুধু জানতাম উনি একজন সেলিব্রিটি। ওঁর যে বারে গিয়ে ড্রিংকস করার ছবি সামনে এসেছে, তাতে ব্যক্তিগত জীবন, চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল।আমি এসব জানতাম না। ব্রাহ্মণের মেয়ে বলে প্রার্থী করেছিলাম। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টে দিয়েছি। ওই কেন্দ্রে কোনও সংখ্যালঘুকেই প্রার্থী করবো। আগামী সাতদিনের মধ্যে ওই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেবো।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূল সাসপেন্ড করার পরই ভরতপুরের বিধায়ক জানিয়েছিলেন ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণা করবেন। তিনি এও বলেছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে বেশি আসনে প্রার্থীও দেবেন। অন্যদিকে, বালিগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukherjee) দীর্ঘ সময় ধরে এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। পরে তাঁর মৃত্যুর পর এই কেন্দ্র থেকে উপ নির্বাচনে জয়ী হন বাবুল সুপ্রিয়। ওই বিধানসভা এলাকার একটা বড় অংশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। ৬০, ৬১, ৬৪ ও ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ পার্ক সার্কাস, কড়েয়া বেনিয়াপুকুর, মল্লিকবাজার এলাকা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।
