Alipurduar | চোখের জলে ভেসে পালিতা কন্যার বিয়ে

Alipurduar | চোখের জলে ভেসে পালিতা কন্যার বিয়ে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


রাজু সাহা, শামুকতলা: মঙ্গলবার পায়েলের বিয়ের আসর বসেছিল আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-২ ব্লকের প্রত্যন্ত ভাসারডাবরি গ্রামে, মিনু বর্মনের বাড়িতে। আমন্ত্রিত ৩০০ জনকে ভাত-ডাল, বেগুনি, বাঁধাকপির ঘণ্ট, আলু-চিংড়ি, কাতলা মাছের কালিয়া, চাটনি-দই-মিষ্টি সহযোগে খাওয়ানো হয়েছে পেটপুরে। কে এই মিনু আর পায়েল?

মিনুর মুখেই শোনা গেল, প্রায় ১৭ বছর আগের কথা। ওই গ্রামে থাকতেন পায়েলের মা-বাবা। ছোট্ট পায়েলের বয়স তখন মাত্র এক বছর। অসুস্থ হয়ে মারা যান তাঁর মা। ঘটনার ছ’মাস পরে হঠাৎই একদিন দেড় বছরের মেয়েকে মিনুর কোলে দিয়ে ওঁর বাবা বলেন, ‘আজ থেকে এই মেয়ে তোমার। তুমি ওকে মানুষ কোরো।’ তার দু’দিন পরে অবসাদে আত্মঘাতী হন পায়েলের বাবা। তখন থেকে মা-বাবাহারা পায়েলকে বুকে আগলে মানুষ করতে শুরু করেন মিনু। এদিন একচোখ জল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের এক ছেলে আছে। তবে পায়েলের সঙ্গে যেন মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে পড়ি। দিনমজুরির করে ওদের বড় করতে শুরু করি।’

ওদিকে বধূবেশে পায়েলেরও বড্ড মন খারাপ! ‘মা’-কে ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যেতে হবে। আসলে মিনুর আদরে মানুষ হওয়া পায়েল কোনওদিন বুঝতে পারেননি, মিনু ওঁর আসল মা নন। বলতে বলতেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন পায়েল। ক’দিন আগেও এই দিনটার কথা ভাবতে পারেননি মিনু। ভেবেছিলেন, হয়তো এক কাপড়েই ‘নমো-নমো করে’ বিয়ে দিতে হবে পায়েলের। তখনই খবর পেয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সমাজসেবী রাতুল বিশ্বাস। রাতুল বলেন, ‘দুঃস্থ পরিবারের মেয়েটির বিয়ের আয়োজনে শামিল হতে পেরে খুব আনন্দ হচ্ছে। আরও অনেককেই এ কাজে পাশে পেয়েছি। তাঁদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *