উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী কলকাতার (Kolkata) রাজপথে ছাত্র-যুবদের সাম্প্রতিক মিছিল ঘিরে ছড়িয়ে পড়া চরম অশান্তির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। গত শুক্রবারের মিছিলে নাশকতামূলক কাজ ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজনকে আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাড়ি থেকে এবং অন্যজনকে পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও নয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শুক্রবার ধর্মতলার ছাত্র-যুবদের মিছিলের অশান্তির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই কড়া পদক্ষেপের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার সকালে বিধানসভাতেও বিষয়টি নিয়ে জোরালো বিবৃতি দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে মেটিয়াবুরুজের ‘রাজাবাগানের আফরোজ’-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পরই বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। মেটিয়াবুরুজের রাজাবাগান এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আফরোজকে ধরতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায় সে পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই বিশেষ দল পাঠিয়ে অণ্ডাল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সি আরশাদ আলি ওরফে সাজিদকে তাঁর আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাড়ি থেকেই পাকড়াও করা হয়।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, শুক্রবারের ওই মিছিলে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে প্রকৃত ছাত্রসমাজ বা কোনো ছাত্র সংগঠনের দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, ওই ৭০ জনের মধ্যে কেউ পড়ুয়া বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সদস্য নন এবং নিট (NEET) আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনো যোগ নেই। পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য চক্রীদের সন্ধান পেতে আটক হওয়া নয়জনকে জেরা করছেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা।

