উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ভাঙন হুগলির (Hooghly) ভদ্রেশ্বর (Bhadreswar) পুরসভায়। দীর্ঘদিনের তৃণমূলের (TMC) শক্ত ঘাঁটিতে আচমকাই পদত্যাগ করলেন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী। তবে এখানেই শেষ নয়, পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান সহ ৮ জন কাউন্সিলর। এই গণ-পদত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
২২টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট ভদ্রেশ্বর পুরসভায় বর্তমানে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য। তবে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে বাধা এবং আর্থিক অনুদান নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ চালানো অসম্ভব বলেই নাকি মনে করছেন কাউন্সিলরদের একাংশ। যদিও প্রলয় চক্রবর্তী সরাসরি জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তাকে মান্যতা দিয়েই এই সিদ্ধান্ত। তৃণমূলের হারের নৈতিক দায় তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন।
এদিকে, এই পদত্যাগের পেছনে দুর্নীতির ভয় কাজ করছে কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো দুর্নীতির ছায়া প্রলয় ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর পড়ার সম্ভাবনা ছিল, সেই ভয় থেকেই আগেভাগেই তাঁরা সরে দাঁড়াচ্ছেন।
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান। তিনি পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ‘‘আমার পরিবারের কেউ বা দূরসম্পর্কের কোনও আত্মীয়ও পুরসভায় চাকরি করেন না। কাগজেকলমে দেখা যাবে, আগের চেয়ারম্যানের সময় নিয়োগ হয়েছিল। আমি চেয়ারম্যান হই ২০১৮ সালে।’’
পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর প্রলয় চক্রবর্তী জানান, এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। দলের তরফ থেকে তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেও আপাতত বোর্ড পরিচালনায় কোনো বাধা আসবে না বলেই দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে আপাতত প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহের মন্তব্য, ‘‘এ বিষয়ে কথা হয়নি। পদত্যাগ করে থাকলে ভাল। ওদের অন্তরাত্মা জেগে উঠেছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। বিজেপি সরকার সব সময় চাইবে, মানুষ যাতে পরিষেবা পায়।’’
এই আবহে আগামী দিনে ভদ্রেশ্বর পুরসভার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ঠিক কোন খাতে বইবে, সেই দিকেই তাকিয়ে এখন সাধারণ মানুষ।
