উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৫ সাল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। এ বছরই ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বজয় করেছে টিম ইন্ডিয়া। মিতালি রাজ, ঝুলন গোস্বামীরা যা পারেননি, তা করে দেখিয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের প্রমীলাবাহিনী। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই বছর শেষে দেশের মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য এল এক বড়সড় ‘ক্রিসমাস উপহার’। ঘরোয়া ক্রিকেটে মহিলাদের ম্যাচ ফি এক ধাক্কায় আড়াই গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)।
সোমবার আয়োজিত বোর্ডের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের মিটিংয়ে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিসিআই-এর লক্ষ্য হল, ভারতে মহিলারা যাতে ক্রিকেটকে কেবল শখ নয়, বরং একটি লাভজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। নতুন এই বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সিনিয়র থেকে জুনিয়র—সব স্তরের ক্রিকেটাররাই আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন সিনিয়র মহিলা ক্রিকেটার আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম একাদশে থাকলে ম্যাচ প্রতি ২০ হাজার টাকা পেতেন। এখন থেকে তিনি পাবেন ৫০ হাজার টাকা। শুধু প্রথম একাদশই নয়, যারা স্কোয়াডে থেকেও খেলার সুযোগ পান না (রিজার্ভ বেঞ্চ), তাদের ম্যাচ ফি-ও ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
একইভাবে জুনিয়র স্তরেও খুশির হাওয়া। জুনিয়রদের প্রথম একাদশের ম্যাচ ফি ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। আর রিজার্ভে থাকা জুনিয়র ক্রিকেটারদের ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ৫০০ টাকায়। ওয়ানডে ফরম্যাটের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ম্যাচ ফি-ও বর্তমান হারের তুলনায় আড়াই গুণ হারে বৃদ্ধি পাবে।
আগে ২০২১ সালে শেষবার মহিলাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে (Home Cricket) পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছিল। তখন সিনিয়রদের ফি ১২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করা হয়। এ বছরের শুরুতেই বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিসিআই (BCCI) ভারতীয় দলকে ৫১ কোটি টাকার বিশাল অর্থ পুরস্কার দিয়েছিল। এবার ঘরোয়া স্তরে ম্যাচ ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল স্তরের মহিলা ক্রিকেটারদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
