Purple Fox | প্যাংগংয়ের তীরে ‘রূপকথা’র দর্শন! পর্যটকদের সামনে হাজির বিরল ‘হিমালয়ান রেড ফক্স’

Purple Fox | প্যাংগংয়ের তীরে ‘রূপকথা’র দর্শন! পর্যটকদের সামনে হাজির বিরল ‘হিমালয়ান রেড ফক্স’

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখ মানেই নীল আকাশ আর ধূসর পাহাড়ের এক রুক্ষ মায়াজাল। কিন্তু সেই ক্যানভাসে যখন হঠাৎ এক টুকরো আগুনের মতো চলন্ত ছবি ভেসে ওঠে, তখন অবাক হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সম্প্রতি প্যাংগং লেকের কাছে এমনই এক বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন একদল পর্যটক। তাঁদের ক্যামেরায় ধরা দিল হিমালয়ের অত্যন্ত লাজুক ও সুন্দর প্রাণী—হিমালয়ান রেড ফক্স বা লাল শিয়াল।

মরু-প্রান্তরে এক বিস্ময়কর সাক্ষাৎ
বিভর শ্রীবাস্তব নামে এক পর্যটক তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের গাড়ির ঠিক পাশেই নির্ভয়ে চলে এসেছে একটি সুন্দর লাল শিয়াল। তার তীক্ষ্ণ কান আর ঝোপালো লেজ দেখে প্রথমে অনেকে নেকড়ে ভেবে ভুল করলেও, পরে স্পষ্ট হয় এটি আদতে রেড ফক্স। বিভর তাঁর পোস্টে লেখেন, “প্রকৃতি যখন এভাবে চমক দেয়, তখন শব্দরা হারিয়ে যায়। এই মুহূর্তটি আমার চিরকাল মনে থাকবে।”

‘সহানুভূতি’ কি কাল হচ্ছে বন্যপ্রাণীর?
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে পর্যটকদের একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত— তাঁরা প্রাণীটিকে কোনও খাবার দেননি। তবে এই ঘটনা নিয়ে সতর্কবাণী শুনিয়েছেন আইএফএস (IFS) অফিসার পারভীন কাসওয়ান (Parveen Kaswan)। তাঁর মতে, শিয়ালটি যেভাবে গাড়ির কাছে এগিয়ে আসছিল, তাতে বোঝা যায় এর আগে কেউ না কেউ তাকে খাবার খাইয়ে অভ্যাস খারাপ করেছে। তিনি স্পষ্ট বলেন,”সহানুভূতি-ভিত্তিক সংরক্ষণ অনেক সময় প্রজাতির শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।” বন্যপ্রাণীদের মানুষের খাবারের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা তাদের নিজস্ব শিকারি চরিত্র ও বন্য বৈশিষ্ট্যগুলো নষ্ট করে দেয়।

উদ্ধার ও পুনর্বাসন: আশার আলো
লাদাখের বন্যপ্রাণী বিভাগ (Division of Wildlife Safety) এই বিরল প্রাণীদের রক্ষায় অত্যন্ত তৎপর। গত জুন মাসেই লেহ-এর স্পিতুক ফারকা এলাকা থেকে একটি আহত লাল শিয়ালকে উদ্ধার করা হয়েছিল। কাঁধ এবং পায়ে চোট পাওয়া সেই শিয়ালটিকে ‘ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে’ (WRRC) এক মাস চিকিৎসার পর জুলাই মাসে পুনরায় তার নিজের এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

কেন এই শিয়ালরা বিশেষ?
হিমালয়ের উচ্চভূমিতে বসবাসকারী এই প্রাণীরা সাধারণত মানুষের থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করে। তাদের গায়ের উজ্জ্বল তামাটে-লাল রং তুষারাবৃত মরুভূমিতে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করে। পরিবেশবিদদের মতে, এদের অস্তিত্ব রক্ষা করা হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *