নাগরাকাটা: বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার ডুয়ার্সের পাহাড়ি অঞ্চলেও বড় রাজনৈতিক আলোড়ন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ডুয়ার্সে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠল বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বাধীন জোটসঙ্গী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (Gorkha Janmukti Morcha)। তৃণমূল (TMC) জমানায় যে সংগঠন কার্যত স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, গেরুয়া ঝড় উঠতেই সেই ‘স্লিপার সেল’ এখন নতুন করে জেগে উঠেছে। বৃহস্পতিবার নাগরাকাটার পানঝোড়া বনবস্তীর কমিউনিটি হলে নাগরাকাটা ও মেটেলি— এই দুই ব্লকের সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে নিজেদের শক্তির জানান দিল মোর্চা।
গোর্খাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সংকট ও দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে এবার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে আশাবাদী ডুয়ার্সের মোর্চা নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিবু সুনুয়ার মনে করিয়ে দেন, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা গোর্খাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সেই সমাধান কি আলাদা রাজ্য ‘গোর্খাল্যান্ড’? এই প্রশ্নে রহস্য জিইয়ে রেখে বর্ষীয়ান নেতা শিবু সুনুয়ার জানান, “সেটা এখনই বলতে পারবো না। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সেরার সেরা সাংবিধানিক ব্যবস্থাই আমাদের জন্য হতে চলেছে, যা অসমের বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (BTR)-এর থেকেও অনেক উন্নত হবে।”
এদিনের সভা থেকে দলবদলু ও দুর্নীতিবাজদের জন্য কড়া ফতোয়া জারি করেছে মোর্চা। সম্প্রতি সামসিং এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতা দার্জিলিংয়ে গিয়ে বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে দেখা করায় তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন ডুয়ার্সের আদি নেতারা। শিবু সুনুয়ার সাফ বলেন, “আমাদের সুপ্রিমো বিমল গুরুং সিধেসাধা মানুষ। এখন ওঁর সঙ্গে ছবি তোলার লম্বা লাইন লেগেছে। কিন্তু পিঠ বাঁচাতে যারা প্যারাসুটে করে দার্জিলিংয়ে ল্যান্ডিং করছেন, সেই দুর্নীতিগ্রস্তদের দলে নেওয়া হবে না।” মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির বার্তা স্পষ্ট— ‘দুর্নীতিবাজদের প্রশ্নে বিজেপির লাইনই আমাদের লাইন’। মোর্চার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভুজেল বলেন, “পিঠ বাঁচানোর জন্য তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের এই বাইপাস কৌশল কেউ মেনে নেবে না।”
মেটেলি ও নাগরাকাটার জন্য ৯ জন করে পদাধিকারী নিয়ে নতুন কমিটি গড়ার পাশাপাশি, শুক্রবার মালবাজার ব্লকের জন্য ওদলাবাড়িতে বড় সভা ডাকা হয়েছে। পশ্চিম ডুয়ার্সের পাশাপাশি মধ্য ও পূর্ব ডুয়ার্স এলাকাতেও আদি মোর্চা নেতারা নতুন মুখদের সামনে এনে সংগঠন ঢেলে সাজাচ্ছেন, যা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
