গৌতম দাস, গাজোল: বিজেপির জন্মলগ্নে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার যতদিন প্রতিষ্ঠা হবে না, ততদিন তিনি চুল ও দাড়ি কাটবেন না। এমনই দাবি অতুলচন্দ্র বিশ্বাসের। তা যাইহোক, ৪৬ বছরের অপেক্ষা শেষে রাজ্যের মসনদে প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিজেপি সরকার। প্রবীণ অতুলের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হয়েছে। সোমবার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের উদযাপন হল গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে। চুল ও দাড়ি কাটার পর স্নান করলেন দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে। বিজেপির (BJP) তরফে তাঁকে পরানো হল নতুন পোশাক। আনন্দে ভাসলেন গাজোলের (Gazole) মশালদিঘি গ্রাম। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস, পরেশ বিশ্বাস প্রমুখ।
বর্তমানে প্রায় ৭৫ বছর বয়সে পা দেওয়া অতুল এক সময় মশালদিঘি বাসস্ট্যান্ডে চায়ের দোকান চালাতেন। তবে পরিবারে কেউ না থাকায় তিনি সিঙ্গাবাদ শ্রীরামপুরে মেয়ে গীতা দে’র বাড়িতে থাকেন। বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী অতুল বললেন, ‘আটের দশকে আহোরা বুথে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়াই করেছিলাম। ভোট পেয়েছিলাম মোটে সাতটা। তখন অনেকেই ব্যঙ্গবিদ্রুপ করেছিলেন। সেই সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত চুল ও দাড়ি কাটব না। অবশেষে আমার সেই আশা পূরণ হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। আজকে আমি চুল দাড়ি কেটে সেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলাম। আজকে আমি ভীষণ খুশি।’
বিজেপির প্রবীণ নেতা চিত্তরঞ্জন বললেন, ‘যখন এ সমস্ত এলাকায় বিজেপির পতাকা ধরার লোক ছিল না, সে সময় থেকে তিনি বিজেপি করতেন। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত চুল ও দাড়ি কাটবেন না। তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে। আজকে বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত থেকে মস্তক মুণ্ডন করলেন তাঁর। তাঁর দাড়িও কেটে ফেলা হল। তাঁকে সংবর্ধনা দিতে পেরে খুশি।’ অতুলের মস্তক মুণ্ডন করার পর ক্ষৌরকার ঈশ্বর প্রামাণিক বললেন, ‘আমরা দুজনেই পাশাপাশি দোকান করতাম। আজ বেশ ভালো লাগছে।’ সমস্ত কিছু মিটে যাওয়ার পর বিজেপির তরফে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচলতি মানুষদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়।
