Buniadpur | চিনা ভাষায় স্ত্রীর নাম! বুড়িমায়ের পুজোয় বুনিয়াদপুরে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশল আধুনিকতার ছোঁয়া

Buniadpur | চিনা ভাষায় স্ত্রীর নাম! বুড়িমায়ের পুজোয় বুনিয়াদপুরে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশল আধুনিকতার ছোঁয়া

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


অনুপ মণ্ডল, বুনিয়াদপুর: শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আর লোকবিশ্বাসকে ঘিরে সোমবার বুনিয়াদপুর (Buniadpur) পুর এলাকার থিঙ্গুরে অনুষ্ঠিত হল প্রসিদ্ধ বুড়িমায়ের পুজো। বৈশাখ মাসের শেষ সোমবারকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই থিঙ্গুর এলাকায় ছিল উৎসবের আবহ। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণ। এদিকে মেলা প্রাঙ্গণেই এক তরুণকে দেখা যায় নিজের হাতে স্ত্রীর নাম চিনা ভাষায় ট্যাটু করাতে। বিষয়টি নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়ে যায় উৎসুক জনতার মধ্যে।

পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে থিঙ্গুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে রয়েছে বুড়িমায়ের এই বহু প্রাচীন মন্দির। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, পাঁচ বুড়িমায়ের মধ্যে থিঙ্গুর বুড়িমা সবচেয়ে বড় বোন। বর্তমান সেবাইত দ্বিজেন প্রধান বলেন, ‘এটি শুধু রাজবংশী সম্প্রদায়ের পুজো নয়, সব ধর্মের মানুষই বুড়িমায়ের আরাধনায় অংশ নেন।’

মন্দিরে চণ্ডীরূপে চার হাতে সিংহাসনে আসীন বুড়িমা, দুই পাশে লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে নিয়ে পূজিত হন। রবিবার সন্ধ্যায় ঘট বসানোর মধ্য দিয়ে পুজোর সূচনা হয়। সোমবার সকাল থেকেই থিঙ্গুর, আম্বই, করখা, গৌরীপাড়া, সরাই, নলপুকুর, বুনিয়াদপুর, বড়াইল ও বংশীহারী সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক ভক্ত মানতের ডালা নিয়ে মন্দিরে ভিড় জমান।

পুজোকে ঘিরে দিনভর চলে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মন্দিরের নীচে অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলচণ্ডীর গান, মুখা নাচ। দুপুর থেকে মেলা প্রাঙ্গণে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। ভোগ, মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয়, ফাস্ট ফুড, স্টেশনারি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানা সামগ্রী কেনাবেচা হয়। শিশুদের জন্য ছিল টয়ট্রেন, দোলনা ও জাম্পিংয়ের ব্যবস্থা। তরুণদের ভিড় লক্ষ করা যায় ট্যাটুর দোকানেও। সেখানেই এদিন স্থানীয় রিজু রায়কে ৭০০ টাকায় নিজের বাঁ হাতে স্ত্রী প্রীতির নাম চিনা ভাষায় ট্যাটু করাতে দেখা যায়। তাঁর কথায়, ‘সবাই তো ইংরেজি, বাংলা হরফে ট্যাটু করে। আমি একটু আলাদা ভাষায় নাম লিখে অভিনবত্ব আনলাম।’

এলাকাবাসীর মতে, বুড়িমায়ের নামে পুকুর সহ প্রায় পাঁচ একর জমি রয়েছে। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, একসময় পুজোর আগের দিন মন্দিরের পূর্ব পাশের পুকুর থেকে পুজোর কাজে ব্যবহৃত থালা-বাসন ভেসে উঠত এবং পুজো শেষে সেগুলি আবার পুকুরে ফিরিয়ে দিতে হত। বর্তমানে পুকুরটি লিজ দিয়ে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা দিয়েই মন্দির সংস্কার, পুজো ও সেবাইতের যাবতীয় খরচ বহন করা হয়।

পুজো কমিটির সম্পাদক তুলারাম সরকার বলেন, ‘ঠিক কতদিন আগে এই পুজোর শুরু তা জানা নেই। তবে রাজবংশী সমাজের প্রাচীন কৃষ্টি ও ঐতিহ্য আজও আমরা ধরে রেখেছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *