সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: নারী অর্ধেক আকাশ! নারীদের প্রাপ্য সম্মান দিতে উদ্যোগের শেষ নেই। সংসদীয় রাজনীতিতে নারীদের প্রাধান্য বৃদ্ধিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণে মহিলা বিল নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কিন্তু গৌড়বঙ্গের ২৭টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় পা পড়ছে মাত্র একজন মহিলা বিধায়কের। তিনি সুজাপুরের বিধায়ক তৃণমূলের সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yeasmin)। তাঁর জয়ের ব্যবধান প্রায় ৬০ হাজার। অর্থাৎ মহিলা সংরক্ষণের কথা যতই বলা হোক, গৌড়বঙ্গে পুরুষদের প্রাধান্য এবারও বেশি।
গৌরবঙ্গের তিন জেলা, দুই দিনাজপুর এবং মালদায় মহিলা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির অনীহা এতে প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলার নির্বাচনের আগে মহিলাদের স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নানা মন্তব্য করেছেন। মহিলাদের মন পেতে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ নানা প্রকল্প চালুও করেছিলেন। আবার সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল রুখে যাওয়া নিয়েও, সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু গৌড়বঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে তেমন গুরুত্ব ছিল না বিজেপি বা তৃণমূলের। তাও যে কয়েকটি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল, তাঁরাও হেরেছেন। একমাত্র মালদার সুজাপুরে সাবিনা জয়ী হয়ে জেলার মান কিছুটা রক্ষা করেছেন। যে পথে হাঁটতে পারেনি উত্তর ও দক্ষিণ, দুই দিনাজপুর।
৩৩ শতাংশ আসনে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে প্রকাশ্যে তৎপরতা দেখালেও বাস্তব বলছে অন্য কথা। বিজেপি বা বামেরা মহিলা প্রার্থী দেয়নি বললেই চলে। তৃণমূল কংগ্রেস দক্ষিণ দিনাজপুরে ৫০ শতাংশ আসনে মহিলা প্রার্থী দিলেও, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদায় মহিলা প্রার্থী দেয়নি বললেই চলে। তৃণমূল দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) ছয়টির মধ্যে তিনটি আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছিল। কুশমণ্ডিতে তাদের বিদায়ি বিধায়ক রেখা রায়কেই প্রার্থী করা হয়েছিল। তপনের প্রার্থী করা হয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহাকে এবং বালুরঘাট আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল প্রাক্তন সাংসদ তথা নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষকে। এই তিন প্রার্থী বিজেপির পুরুষ প্রার্থীদের কাছে হেরে গিয়েছেন।
মালদার বৈষ্ণবনগর বিধায়ক চন্দনা সরকার ও সুজাপুরে সাবিনাকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। সাবিনা জিতলেও, হেরেছেন চন্দনা। আবার গৌড়বঙ্গের তিন জেলায় বিজেপির একমাত্র মহিলা প্রার্থী ছিল ইটাহারে। সেই সবিতা বর্মনও সেখানে তৃণমূলের কাছে হেরে গিয়েছেন। কংগ্রেস অবশ্য তিন জেলায় কয়েকজন মহিলা মুখকে প্রার্থী করেছিল। তবে মালতীপুরের মৌসম বেনজির নুর, গঙ্গারামপুরের জুঁই বর্মন সহ প্রত্যেক মহিলা প্রার্থী তো বটেই, কংগ্রেসের একজন পুরুষ প্রার্থীও জয়ের মুখ দেখতে পাননি।
সাবিনা বলছেন, ‘দলের তরফে উত্তরবঙ্গে বেশ কয়েকজন মহিলা প্রার্থী দেওয়া হয়। তার মধ্যে মালদায় আমিও ছিলাম। তার মধ্যে আমি একমাত্র জয়ী হতে পেরেছি। এখন থেকে নতুন লড়াই শুরু করতে হবে। আশা করি আগামীদিনে মানুষ আমাদের পাশে থাকবেন এবং সবাই মিলে আমরা লড়াইয়ের ময়দানে থাকব।’ ’২১-র ভোটে মালদায় ১২টির মধ্যে তৃণমূল ৮টি আসন দখল করেছিল। তার মধ্যে এবার দুটি আসন বিজেপির কাছে খোঁয়াতে হয় তৃণমূলকে। কিন্তু সাবিনার দাবি দুটি আসন কমলেও তুলনামূলকভাবে ভালো রেজাল্ট হয়েছে।
