আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনার পারদ চড়ছে আসানসোলে (Asansol Submit Ballot Pressure)। মঙ্গলবার রাতে আসানসোল (Asansol Information) পুরনিগমের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মৌসুমী বসুর কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কোর্ট মোড় সংলগ্ন বার্নপুর রোডের এই অফিসের পাশে থাকা একটি কেকের দোকানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল উত্তর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। দমকল ও পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
শিল্পাঞ্চলজুড়ে অশান্তির আবহে বুধবার আসানসোল জেলাশাসক কার্যালয়ে একটি জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে আসানসোলের পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার, জেলাশাসক এস পোন্নাবলম এবং ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর সুনীল কুমার সিং স্পষ্ট জানান, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০০ জনকে গ্রেপ্তার (Arrest) করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপিকে বদনাম করার জন্য কেউ এই কাজ করে থাকতে পারে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, কাউন্সিলার নিজেই তাঁকে ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর দিয়েছিলেন এবং তিনি তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানান।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে এবং উস্কানিমূলক কাজ থেকে দূরে থাকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আপাতত ঘটনার তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।
