ফালাকাটা: মা মূক ও বধির, বাবা নেই। ঘরে রয়েছে ত্রিশ বছর বয়সি মানসিক ভারসাম্যহীন একমাত্র ছেলে। আর তাঁরই চরম উগ্র আচরণ ও হিংসাত্মক উৎপাতে এখন দিশাহারা গোটা পরিবার তথা প্রতিবেশীরা। নিরুপায় হয়ে বাধ্য হয়েই রাতে ওই তরুণকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার (Falakata Psychological Affected person Chained) মর্মান্তিক ছবি সামনে এল আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। চরম আর্থিক অনটন ও চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকায় অর্থাভাবে এভাবেই দিন কাটছে ওই যুবকের।
আলিপুরদুয়ার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিশাগোড় গ্রামের বাসিন্দা বৈদ্য দাস নামে ওই যুবক বেশ কিছুদিন ধরে মারাত্মক মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তাঁর মা রূপসী দাস মূক ও বধির হওয়ায় এই পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা তাঁর নেই। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বৈদ্য কখনও বাড়িঘরে ইট-পাথর ছুড়ছেন, কখনো বা আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছেন। এমনকি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অন্য গ্রাম বংশীধরপুর থেকে তাঁর মামা রামপদ দাস এসে ভাগ্নেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখছেন। রাতের দিকে তাঁর আগ্রাসন ও অত্যাচার চরমে পৌঁছায় বলে রাতে বাড়ির পাশের প্রাইমারি স্কুলের বারান্দায় তাঁকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়।
মামা রামপদ দাস জানান, তিন বছর আগে নিজের জমিও বন্ধক রেখে এক লক্ষ টাকা খরচ করে অসমে নিয়ে গিয়ে ভাগ্নের চিকিৎসা করিয়েছিলেন। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও ফের তাঁর মাথার সমস্যা শুরু হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাঁর নিজেরই চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য নেই, উলটে বন্ধক রাখা জমিও এখনও ছাড়াতে পারেননি। তিনি নিজে অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে সংসার চালান।
সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে মানসিক রোগীদের জন্য ‘ইন্ডোর’ বা অন্তর্বিভাগ চালু হলেও, সেখানে পুরোপুরি পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। এই বিষয়ে জেলা হাসপাতালের মনোবিদ নীলাদ্রি নাথ জানিয়েছেন, ইন্ডোর চালু হলেও মানসিক রোগীদের পৃথকভাবে রাখার উন্নত পরিকাঠামো তৈরি না হওয়ায় এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে তুফানগঞ্জ বা বহরমপুর মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোই শ্রেয়। কিন্তু ফালাকাটার এই অসহায় তরুণকে অতদূর নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য বা সামলানোর কেউ নেই।
এদিকে বৈদ্যর লাগামছাড়া উৎপাতে চরম আতঙ্কিত প্রতিবেশীরাও। প্রতিবেশী সরলা দাস ও শান্তিরানি দাস জানিয়েছেন, রাতে তাঁদেরও ঘুমোনোর জো থাকে না। অবিলম্বে প্রশাসন যদি এগিয়ে এসে ওই যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে, তবেই তাঁরা স্বস্তি পাবেন। এই বিষয়ে ফালাকাটা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অনিমা সরকার আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, ওই যুবককে যাতে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে তাঁরা সর্বতোভাবে চেষ্টা চালাবেন।

