উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে (Strasbourg) অবস্থিত ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (European Parliament) ভবনের অন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) একটি সুবিশাল ও বিতর্কিত ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে আট ফুট উঁচু এই মূর্তিটি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় তৈরি করা হয়েছে এবং এর গায়ে রয়েছে সোনার প্রলেপ। ডেনমার্কের প্রখ্যাত ভাস্কর জেন্স গ্যালশিওট এই শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন। বৈশ্বিক রাজনীতি এবং সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত আলোচনা তৈরি করা এই ভাস্কর্যটির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমলা মহামারি-অন্যায়ের রাজা’ বা ইংরেজিতে ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ- কিং অব ইনজাস্টিস’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ত্বকের বিশেষ রঙের প্রসঙ্গ টেনে সাধারণত ইউরোপের গণমাধ্যমে এই ধরনের নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ডেনমার্কের বামপন্থী রাজনীতিবিদ তথা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য পার ক্লসেনের উদ্যোগে গত বুধবার পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্যটি জনসমক্ষে আনা হয়। শিল্পকর্মটিতে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূর্তির রূপায়ণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক হাতে একটি গল্ফ ক্লাব ও পৃথিবীর আকৃতিযুক্ত একটি বল এবং অন্য হাতে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা ধরে রয়েছেন। পাশাপাশি, তাঁকে একজন কৃশ ও খর্বকায় মানুষের কাঁধের ওপর চেপে বসে থাকতে দেখা যায়, যেখানে তিনি নিজের দুই হাঁটু দিয়ে ওই দুর্বল ব্যক্তির মাথা শক্ত করে চেপে ধরেছেন। পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন নিয়েই সাময়িক প্রদর্শনীর জন্য এই বিতর্কিত মূর্তিটি ভবনের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে।
ভাস্কর্যটির পাদদেশে থাকা ফলকে একটি বিশেষ বার্তা খোদাই করা রয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে— ‘আমি এক জন মানুষের পিঠে চড়ে বসে আছি। তিনি আমার ভারে নুয়ে পড়ছেন। তাঁকে সাহায্য করার জন্য আমি সব কিছুই করব। শুধু তাঁর পিঠ থেকে নেমে যাওয়া ছাড়া’। ভাস্কর জেন্স গ্যালশিওট জানিয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণায়ন এবং সবুজায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেতিবাচক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আঙিনায় আমেরিকার একাধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এটি একটি তীব্র ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ।
রাজনৈতিক ও প্রতিবাদী শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে জেন্স গ্যালশিওটের আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। এর আগে ১৯৮৯ সালের বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চিনা সেনার হামলায় নিহত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁর তৈরি ‘পিলার অব শেম’ বা ‘লজ্জার স্তম্ভ’ ভাস্কর্যটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বর্তমানের এই ট্রাম্প-মূর্তিও আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।

