US Visa | মার্কিন গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা, আট তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কোপ ট্রাম্প প্রশাসনের

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকায় চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখে যারা আকাশছোঁয়া আশা বুক বাঁধেন, তাদের সেই পথ এবার আরও কঠিন করে তুলল হোয়াইট হাউসের নতুন পদক্ষেপ। মার্কিন মুলুকের শীর্ষস্থানীয় একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে ইনফোসিস (Infosys), উইপ্রো (Wipro), মাইক্রোসফটের (Microsoft) মতো খ্যাতনামা সংস্থায় কেরিয়ার গড়ার পথ অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট আটটি বহুজাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সংস্থাগুলি বেআইনি উপায়ে বা নিয়মের ফাঁক গলে এইচ-১বি ভিসার (H1B) যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। উল্লেখ্য, এই সংস্থাগুলি প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মেধাবী পেশাদারকে কাজের সুবাদে মার্কিন মুলুকে নিয়ে যায়। নতুন এই নিয়মের ফলে সেই চেনা পথ অনেকটাই সংকুচিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক মাস আগে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল কগনিজ্যান্টকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক অনুমান ছিল, আমেরিকার নামী কয়েকটি কোম্পানি ভিসা নীতি লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে কগনিজ্যান্টের নামও জোরালোভাবে উঠে আসে। দীর্ঘ দু’মাস ধরে চলা চুলচেরা তদন্তের পর মার্কিন প্রশাসন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ভিসার নিয়মনীতি ভাঙার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এর জেরে ওই সংস্থার জমা দেওয়া পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএম আবেদনপত্রগুলি সাসপেন্ড বা স্থগিত করে দেওয়া হয়।

প্রাথমিক সেই পদক্ষেপের পরিধি বাড়িয়ে এবার মাইক্রোসফট, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), উইপ্রো, ইনফোসিস, অ্যাডোব, এইচসিএল এবং ক্যাপজেমিনির নামও সেই কালো তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই আটটি কোম্পানির পিইআরএম সংক্রান্ত কোনও আবেদনই গৃহীত হবে না।

উল্লেখ্য, আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস ও চাকরি নিশ্চিত করার প্রথম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল এই পিইআরএম সার্টিফিকেশন, যা মূলত গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। মার্কিন সংস্থাগুলি সাধারণত এই পদ্ধতির সাহায্যেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে।

তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে সংস্থাগুলিকে প্রধানত দুটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, তাদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রমাণ করতে হয় যে নির্দিষ্ট ওই পদের উপযুক্ত কোনও মার্কিন নাগরিক স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে যেন স্থানীয় আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই টেক জায়ান্টগুলি দেদার বিদেশ থেকে কর্মী উড়িয়ে এনেছে। এমনকি সেই সমস্ত কর্মীরা চুক্তির মেয়াদ ফুরোলেও স্বদেশে না ফিরে আমেরিকাতেই স্থায়ীভাবে থেকে গিয়েছেন।

সাধারণত এই পিইআরএম সংক্রান্ত যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক বন্দোবস্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকেই দেখা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি ভিনদেশি কোনোও পেশাদার আমেরিকায় গিয়ে এই আটটি বড় সংস্থার কোনো একটিতে চাকরি পেতে চান, তবে তাকে নিজের উদ্যোগেই ভিসার আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাই নয়, সেই ভিসার মেয়াদ আদৌ দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত স্থায়িত্ব দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, মার্কিন মুলুকে কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশ এক বিরাট বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা দিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *