Election 2026 | ভবানীপুরে মমতার প্রচারে নয়া চমক! ভোটারদের মন টানতে পাড়ায় পাড়ায় বসছে ‘ফোটো বুথ’

Election 2026 | ভবানীপুরে মমতার প্রচারে নয়া চমক! ভোটারদের মন টানতে পাড়ায় পাড়ায় বসছে ‘ফোটো বুথ’

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Meeting Election 2026) রাজ্যের সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর (Bhabanipur)। গত পাঁচ বছর ধরে বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) যে রাজনৈতিক লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্যবাসী, এবার সেই দ্বৈরথ আছড়ে পড়ছে ভবানীপুরের নির্বাচনী ময়দানে। এই হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। আর তাই প্রচারের ময়দানে এবার ‘ফোটো বুথ’ বা ‘ফোটো কর্নার’-এর মতো অত্যন্ত অভিনব এক কৌশল গ্রহণ করেছে তারা।

তৃণমূলের ‘জয়হিন্দ বাহিনী’র সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই নতুন প্রচার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এই কৌশলের মূল আকর্ষণ হলো, সাধারণ ভোটাররা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। সাধারণত কোনও বড় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বা সামাজিক অনুষ্ঠানে এই ধরনের ‘ফোটো বুথ’ দেখা যায়, কিন্তু বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তদল মোড়ে তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে একটি চতুর্ভুজ আকৃতির ‘ফোটো বুথ’ বসানো হয়েছে। এর ডান পাশে হাতজোড় করা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রয়েছে এবং বাম পাশে রাখা হয়েছে জায়গা, যেখানে দাঁড়িয়ে ভোটাররা ছবি তুলতে পারবেন। বুথের উপরে দলের প্রতীক ও উন্নয়নের স্লোগান লেখা রয়েছে। নিচের অংশে লেখা— “উন্নয়নের পথে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে সবাই মিলে ছবি তুলুন, বাংলার কথা বলুন।” আগামী কয়েক দিনে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার মোট আটটি ওয়ার্ডে এমন ‘ফোটো বুথ’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল নেতৃত্ব।

ভবানীপুরের তিনবারের বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এবার লড়াইটা অত্যন্ত মর্যাদার। একদিকে যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতি লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-র কারণে এই এলাকা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাওয়া এবং আরও ১৪ হাজার নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকা শাসকদলের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও সম্প্রতি জানিয়েছেন, এক ভোটের ব্যবধানে হলেও তিনি জিতবেন।

এই পরিস্থিতিতে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সীর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের কাঁধে ভোটের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ফোটো কর্নার বসানো মাত্রই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা— সকলেই এই প্রচারের অংশ হচ্ছেন। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে এমন কৌশল দেখা না গেলেও, ঘরের মাঠে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার কোনো খামতি রাখতে চাইছে না তৃণমূল শিবির।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *