চোপড়া: শুক্রবার রাতের প্রবল ঝড়-বৃষ্টির জেরে লন্ডভন্ড হয়ে গেল উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) চোপড়া (Chopra Storm Injury) ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। আচমকা ধেয়ে আসা প্রবল ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্লক এলাকার সাধারণ মানুষ। বহু বাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি উড়ে গিয়েছে বহু ঘরের চাল। ঝড়ের দাপটে উপড়ে গিয়েছে হাজার হাজার গাছ। এছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শুক্রবার রাত থেকেই ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকাই আবহাওয়া রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। উত্তর দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, রাতে চোপড়া ব্লকের ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল তীব্র শিলাবৃষ্টি। এই জোড়া ফলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। সেখানে বহু অসহায় পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি, গাছ ভেঙে পড়ে বেশ কিছু রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির স্থানীয় কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ব্লক এলাকায় প্রায় ১০০টি বিদ্যুতের খুঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত থেকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এলাকা ভিত্তিক মেরামতির কাজে হাত লাগিয়েছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা।
শিলাবৃষ্টির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে কৃষিকাজে। ঝড়ের জেরে বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ (Crop Injury) করা গম ও ভুট্টা গাছ একেবারে নুইয়ে পড়েছে। ফসলের এই বিপুল ক্ষতিতে মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের। মহকুমা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্লক কৃষি দপ্তরের কর্মীদের ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সকাল থেকেই ব্লক প্রশাসনের কাছে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে দরখাস্ত জমা দেওয়া শুরু করেছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সবরকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে ব্লক কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
