বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: ২০০ বছরে পদার্পণ করল ময়নাগুড়ি ১০ নম্বর ওয়ার্ড দেবীনগরপাড়া বণিকবাড়ির দুর্গাপুজো। চতুর্থ প্রজন্মের পাঁচ ভাই এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এবার পুজোর আয়োজন করছেন। বসতবাড়িতেই পাকাপোক্ত মন্দির। বংশপরম্পরায় সেখানেই ধুমধাম করে পুজো হয়। বিসর্জনের পর কাঠামো নিয়ে এসে রেখে দেওয়া হয় মণ্ডপে। ৩৬০ দিন পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত মণ্ডপে কাঠামোপুজো করেন। তবে পুজোর পাঁচদিন পুরোহিত পুজো করেন (Durga Puja 2026)।
বণিকবাড়ির এই পুজো শুরু হয়েছিল ঢাকার পাইশাল গ্রামে। মাঝে বাসস্থান বদলে কলকাতার কালীঘাটে পুজো হত। তারপর আবার দীর্ঘ অনেক বছর কুমিল্লা জেলার চান্দিনাতে পুজো হত। আনুমানিক নব্বই বছর আগে পাকাপাকিভাবে ময়নাগুড়ি দেবীনগরপাড়ার বাড়িতে দশভুজার আরাধনা হচ্ছে। বসতবাড়ির সঙ্গে মায়ের মন্দির তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের বড় ছেলে জয়দেব বণিক কলকাতার বাসিন্দা। তিনি বাড়ির পুজোর ইতিহাস সম্পর্কে এমনটাই জানিয়েছেন। জয়দেব বলেন, ‘পুজোর কয়েকদিন ছুটিতে বাড়ি গিয়ে সবাই মিলে পুজোর আয়োজন করাই একটা উৎসব আমাদের কাছে। পাঁচ ভাই এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে পুজোর আয়োজন করা হয়। সঙ্গে থাকেন প্রতিবেশীরাও।’
জয়দেবের বাবা ব্রজগোপাল বণিক এবং মা রাণুবালা বণিক প্রয়াত হয়েছেন। তাঁরাই ছেলে ও বৌমাদের হাতে ধরে পুজোর নিয়মকানুন শিখিয়েছেন। সেই পুরোনো রীতি মেনেই পুজো চলছে আজও। পুজোর জন্য একশো আটটি পদ্ম ফুল, সাত সমুদ্র ও গঙ্গার জল আসে কলকাতা থেকে। পঞ্চমীতে মনসাপুজো হয়। কুমারীপুজো হয় অষ্টমীতে। দশমীতে বিসর্জনের পর কাঠামো খুলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মন্দিরে সেই কাঠামো বসিয়ে বিসর্জনের পর নারায়ণপুজো হয়। জয়দেবের ছোট ভাই ভক্ত বণিক বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পুজোয় প্রতিবেশীরাও অংশ নেন।’ প্রতিবেশী নারায়ণচন্দ্র তরফদার বলেন, ‘এটা বহু বছরের পুরোনো পুজো। আমরাও পুজো উপভোগ করি।’
শুধু পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীরাই নন, দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়রা পুজোর কয়েকটা দিন বণিকবাড়িতে আসেন। ওপার বাংলা থেকেও আত্মীয়রা আসেন। সবমিলিয়ে পুজোর ক’দিন বাড়ি জমজমাট থাকে। পরিবারের আরেক ছেলে সহদেব বণিক বলেন, ‘৩৬০ দিন আমরা বাড়ির মণ্ডপে কাঠামোপুজো করি। বাকি পাঁচদিন মায়ের পুজো করেন শহরের পুরোহিত সনৎ চট্টোপাধ্যায়। মায়ের মূর্তি মণ্ডপেই তৈরি করেন ময়নাগুড়ির মৃৎশিল্পী নির্মল পাল। পুজোর দিনগুলিতে আমরা বাড়িতে নিরামিষ খাবার খাই।’

