সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার-১ (Alipurduar) ব্লকের শালকুমারহাটে (Shalkumar hat) আতঙ্কের আর এক নাম হয়ে উঠেছে শিসামারা নদী (Shisamara River)। গত বছর অক্টোবর মাসে এই নদীর বাঁধ ভেঙে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সেই নতুন বাঁধ আর তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদল হলেও, এলাকার নদী ভাঙন পরিস্থিতির কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ফলে রাতারাতি জলস্তর বেড়ে যায় শিসামারা নদীর। সংস্কার না হওয়া সেই ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়েই হু হু করে শালকুমার ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়া গ্রামে নদীর জল ঢুকতে শুরু করে। আর তাতেই গভীর রাতে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য (Flood Panic) ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামজুড়ে।
গ্রামবাসীদের এই আতঙ্কের পিছনে রয়েছে এক চরম বাস্তব। গত বছর এই নদীর জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছিল এলাকার একাধিক গ্রাম। শুধু জল নয়, বন্যার জলের সঙ্গে চাষের জমিতে ও লোকালয়ে ঢুকেছিল ক্ষতিকারক ডলোমাইটের পলি। সেই ভয়াবহ ও তিক্ত স্মৃতি এখনও প্রত্যেকের মনে দগদগে। তাই চলতি মরশুমের শুরুতে, প্রথমবার গ্রামে নদীর জল ঢুকে পড়ায় নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে রাতভর চোখের দুপাতা এক করতে পারেননি।
যদিও স্বস্তির বিষয় এই যে, জল সরাসরি কারও ঘরের ভেতর ঢোকেনি, গ্রামের নিকাশি নালা দিয়েই মূলত নদীর জল বয়ে যায়। শনিবার সকালের দিকে নদীর জলস্তর কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি সামান্য নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভাঙা বাঁধের বর্তমান কঙ্কালসার দশা দেখতে নদীর তীরে ভিড় জমান উদ্বিগ্ন গ্রামবাসীরা।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যে এই নদীর পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বস্ত বার্তা— পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং বর্ষা পুরোদমে নামার আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসে কতটা কাজ হয়, এখন সেটাই দেখার।
