Durga Puja 2026 | খুদেদের কাঁধে শারদোৎসবের ভার, বালুরঘাটের পাগলীগঞ্জে প্যান্ডেল থেকে চণ্ডীপাঠ সামলাচ্ছে ‘স্কুল পড়ুয়ারা’

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন
শারদোৎসব ২০২৬

বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পতিরাম: কারও হাতে মাটির তাল, কারও হাতে বাঁশের টুকরো। কেউ ব্যস্ত প্যান্ডেল তৈরিতে, কেউ ছুটছে পুজোর বাজার করতে। আবার মন্ত্রোচ্চারণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নবম শ্রেণির এক ছাত্র। বড়দের কাঁধে ভর করে নয়, নিজেদের হাতেই দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) আয়োজন করছে একদল স্কুল পড়ুয়া। বালুরঘাট (Balurghat) ব্লকের পাগলীগঞ্জে ‘বন্ধু চল সংঘ’-এর এই পুজোয় তাই উৎসবের রংটা একটু অন্যরকম।

এবছর পঞ্চম বর্ষে পা দিল বন্ধু চল সংঘের এই আয়োজন। উদ্যোক্তাদের কারও বয়স বারো, কারও পনেরো। তারা কেউ পতিরাম উচ্চবিদ্যালয়, কেউ খাসপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পড়ুয়া। এই দুই স্কুলের পড়ুয়ারাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে পুজোর যাবতীয় দায়িত্ব। সপ্তম শ্রেণির সূর্যদীপ হালদার ও দশম শ্রেণির ঋষি হালদারের হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অবয়ব। প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি সাজসজ্জার দায়িত্বও সামলাবে সূর্যদীপ। অন্যদিকে, নবম শ্রেণির চন্দ্র হালদার ও চোদ্দো বছরের শুভজিৎ হালদার ব্যস্ত প্যান্ডেল তৈরিতে। দা হাতে বাঁশ কেটে, মেপে, জুড়ে নিজেদের মতো করে পুজোমণ্ডপ গড়ে তুলছে তারা। বয়সে ছোট হলেও দায়িত্ব পালনে খামতি নেই কারও। নিজেদের হাতেই শারদোৎসবের প্রস্তুতিকে পূর্ণতা দেওয়ার এই চেষ্টায় মিশে রয়েছে তাদের পরিশ্রম, উদ্যম আর একসঙ্গে কিছু গড়ে তোলার আনন্দ।

পুজোর বাজারের দায়িত্ব নিয়েছে সপ্তম শ্রেণির বিবেক হালদার ও রাজ হালদার। পুজোর দিনগুলিতে জোগাড়ের কাজে তাদের সঙ্গে যোগ দেবে ১৬-১৭ বছরের ঈশিতা হালদার ও শুভশ্রী মণ্ডল।

তবে এই পুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় সম্ভবত পুরোহিতের ভূমিকায় থাকা জ্যোতির্ময় অধিকারী। নবম শ্রেণির এই ছাত্র টানা কয়েকদিন ধরে মন্ত্র মুখস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার তৃতীয়বারের জন্য সে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করবে। গত দু’বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও আত্মবিশ্বাসী জ্যোতির্ময়।

সূর্যদীপের মা বৈজন্তী সরকার হালদার জানান, প্রথম দু’বছর তিনি নিজেই পুজো করেছিলেন। পরে পড়ুয়াদের মধ্য থেকেই একজন পুরোহিতের দায়িত্ব নেয়। তাঁর কথায়, ‘প্রতিমা তৈরি থেকে প্যান্ডেল সাজানো- সব কাজই তারা নিজেরাই করে। বড়রা শুধু প্রয়োজনমতো পাশে থাকেন।’

পাগলীগঞ্জের এই পুজোয় বড় বাজেটের চাকচিক্য নেই। কিন্তু আছে নিজেদের হাতে কিছু গড়ে তোলার আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার উচ্ছ্বাস আর পুজোকে ঘিরে একসঙ্গে এগিয়ে চলার চেষ্টা। তাই এই খুদেদের দুর্গোৎসব শুধু পুজো নয়, বন্ধুত্ব, সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরতার এক সুন্দর ছবি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *