ধুপগুড়ি: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার ধূপগুড়ি (Dhupguri) ব্লকের মাগুরমারী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌরঙ্গী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ৩৬ বছর বয়সি এক গৃহশিক্ষকের। রাজেন্দ্র মাহাতো নামের ওই যুবক পেশাগত কাজ সেরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ প্রবল বৃষ্টির মধ্যে টিউশন পড়িয়ে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় রাস্তার ওপর হঠাৎই একটি বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়েছিল, যার সঙ্গে মোটরবাইক সহ জড়িয়ে গিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন রাজেন্দ্র। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজ উদ্যোগে ট্রান্সফর্মার বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, কিন্তু ততক্ষণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
এই আকস্মিক মৃত্যুর (Electrocution Dying) পরেই এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সুজিত রায় নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বহু জায়গায় বিদ্যুতের তার অত্যন্ত বিপদজনকভাবে ঝুলে রয়েছে এবং এই বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও দপ্তর থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁদের চরম গাফিলতির ফলেই আজ এই তাজা প্রাণ ঝরে গেল বলে অভিযোগ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ বাহিনী। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্থানীয়রা মৃতদেহটি সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধা দেন এবং রাত দেড়টা পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
পরবর্তীতে বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশ ও দপ্তরের পক্ষ থেকে যৌথভাবে মৃত যুবকের পরিবারকে সরকারি নিয়ম মেনে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার দ্রুত মেরামতের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয় এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এদিন জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।

