উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজোড়া ছাত্র বিক্ষোভের জেরে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের মাঝে এর আগেও দু’বার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত সংস্কারে জোর দিয়ে সরকার সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। গত ২০ জুলাই শীর্ষ মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের কথা জানালে, নেতৃত্ব তা ফের প্রত্যাখ্যান করে। সরকারি সূত্রের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের অভিমত ছিল, ‘একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ করাটা সবচেয়ে সহজ বিকল্প – এটা দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো। মোদি সরকার সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তা সমাধানে বিশ্বাসী।’
তবে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পর সরকারের এই অবস্থানে বড়সড়ো পরিবর্তন আসে। সংগঠনটি ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ধাঁচে পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিলে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়। এমনিতেই ২০ তারিখের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জখম হওয়ায় সরকার উদ্বিগ্ন ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, যেখানে বলা হয় যে, দেশবিরোধী শক্তি এই অশান্তির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ডিজিটাল নজরদারিতে দেখা গিয়েছে, ৪০০-র বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতজুড়ে এই ছাত্র আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত প্রায় ১০০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও রয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও সক্রিয় ছিল। তখন তারা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারত-বিরোধী আখ্যান, ভুল তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়েছিল।
গোয়েন্দা বাহিনীর এই সমস্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সিজেপি-র সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের আগে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, জাতীয় স্বার্থ ও জনশৃঙ্খলা রক্ষাকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যন্তর মন্তর চত্বরে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং বিক্ষোভের তীব্রতা রুখতে শেষমেশ ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তা গ্রহণ করেন। তাঁর ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

