রাঙ্গালিবাজনা: বাবা ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক। মা নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ এবং সিডেটিভ ড্রাগস সহ ধরা পড়েছে। ১৪ বছর বয়সি কিশোরীর ঠাঁই হয়েছে সরকারি হোমে। ফালাকাটার জটেশ্বরের এই ঘটনায় সরগরম মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের শিশুবাড়ি। সোমবার রাতে জটেশ্বরে ২২৯১ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ও ৩১২০টি সিডেটিভ ড্রাগস সহ মাদারিহাটের ইসলামাবাদ গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং উত্তর শিশুবাড়ির অণিমা মজুমদার ধরা পড়ে। ঘটনার জেরে অণিমার শাশুড়ি গীতা মজুমদারের মাথায় হাত পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমি নাতনিকে আমার কাছে রাখতে চাই। কিন্তু হোম থেকে নিয়ে আসার নিয়ম জানি না।’ অবশ্য ফালাকাটা থানার আইসি অভিষেক ভট্টাচার্য জানান, ধৃত মহিলার পরিবারের কেউ ওই নাবালিকার দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক হলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।
ধরা পড়ার পর অণিমার ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপর শিশুবাড়িতে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অণিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, অণিমা অনেকদিন ধরে জটেশ্বরে থাকলেও এখনও শিশুবাড়ির ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে। যোগাযোগ না থাকলেও পুলিশের হাতে বেআইনি সামগ্রী সহ বৌমা ধরা পড়ায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে বলে অণিমার শাশুড়ি ও ভাশুররা জানিয়েছেন। অণিমার ভাশুর রঞ্জিত মজুমদারের বক্তব্য, ‘রবিউলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে অণিমা আমাদের পরিবারের লোকজনদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা রুজু করে। এর ফলে আমরা আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যাই। এরপর অণিমা পাকাপাকিভাবে শিশুবাড়ি ছেড়ে চলে যায়।’
অণিমার পড়শিরাও এই ঘটনায় অবাক হয়ে গিয়েছেন। স্বপন সূত্রধর নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু অণিমা যে বেআইনি কারবারে জড়িত আমরা জানতাম না। ও জটেশ্বরে পুলিশের জন্য রান্না করত শুনেছিলাম। তবে রবিউলের সঙ্গে ওর অনেকদিনের যোগাযোগ।’
অণিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা বুধবার অণিমা এবং রবিউলের সম্পর্কের বিস্তারিত বিবরণ দেন। আরেক পড়শি আলিমুল হকের কথায়, ‘তিন বছর আগে অণিমা রবিউলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। চার মাস সংসার করার পর অণিমার স্বামী জ্ঞ্যানা মজুমদারকে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রীকে ঘরে তুলতে অনুরোধ করি। অণিমার স্বামী অত্যন্ত সহজ সরল। তিনি আমাদের অনুরোধ মেনে অণিমাকে ফের ঘরে তোলেন। কিন্তু পরে রবিউলের সঙ্গে সে ফের সম্পর্কে জড়ায়।’
রবিউল ইসলাম বেআইনি নেশার সামগ্রী পাচারের পুরোনো ‘খিলাড়ি’। এর আগে একাধিকবার সে নেশার সামগ্রী সহ ধরা পড়েছিল। শেষবার ধরা পড়ার পর হাইকোর্ট তিনবার রবিউলের জামিন নামঞ্জুর করে। দেড় মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের রবিউল পুরোনো কারবারে নামে। এবছরের ২ এপ্রিল ইসলামাবাদের সরফরাজ খান ৮৬৪ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ সহ ধরা পড়ে। ঘটনায় উঠে আসে রবিউল ও সরফরাজের জামাই মোতাহার রহমানের নাম। ৪ এপ্রিল পুলিশ রবিউলের এক পড়শি মহিলার বাড়ি থেকে ৩৯১০ বোতল কাফ সিরাপ উদ্ধার করে। ওই মহিলা পুলিশকে জানান, রবিউল ভয় দেখিয়ে কাফ সিরাপগুলি তাঁর বাড়িতে রেখেছিল। ঘটনার পর থেকে রবিউল ও মোতাহার পলাতক ছিল। এর মধ্যে ২৬ এপ্রিল রবিউলের বাড়ি থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বেআইনি আসবাবপত্র বাজেয়াপ্ত হয়। তবে অণিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের রবিউলকে নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তাঁরা চিন্তিত অণিমার মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কারণ অণিমার স্বামী অনেকদিন ধরে বাড়িতে আসেন না।
