সুবীর মহন্ত ও বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, বালুরঘাট ও পতিরাম: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূলের নেতা, কর্মী-সমর্থকদের অধিকাংশ হয় ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন নয়তো জেলার বাইরে গা-ঢাকা দিয়েছেন। অফিসে দেখা মিলছে না দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলা পরিষদ, গঙ্গারামপুর পুরসভা সহ প্রচুর পঞ্চায়েতের সভাধিপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পঞ্চায়েতের প্রধান, সদস্যদের।
এদিকে, বিজেপির তরফে বোল্লা পঞ্চায়েতের বাউল বাজারে অবস্থিত তৃণমূল (TMC) দলীয় কার্যালয় ফেরত দেওয়া হলেও তৃণমূলের কেউ আসেননি। শেষে বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপির বুথ সভাপতি শিসেন মহন্ত একপ্রকার হাতজোড় করে তৃণমূলের বুথ সভাপতি দেবাশিস সরকারকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। তাঁর হাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে পার্টি অফিসটি তুলে দেওয়া হয়। সরানো হয় বিজেপির পতাকা।
জেলাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটানো নেতা-কর্মীরা এক অজানা আতঙ্কে ভুগে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না।
যদিও দক্ষিণ দিনাজপুরে টুকিটাকি ঘটনা ছাড়া বড়সড়ো সন্ত্রাসের ঘটনা এখনও ঘটেনি। কিন্তু এই অশান্তি সামাল দিতেই অন্যান্য কাজ ছাড়তে হয়েছে বিজেপি নেতাদের। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, ‘ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন একফোঁটাও বিশ্রাম পাইনি। জেতার পর ভেবেছিলাম একটু ঘুমাব। কিন্তু বিভিন্ন এলাকার টুকিটাকি অশান্তি থামাতেই সময় চলে যাচ্ছে।’
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের অফিস ভাঙা, কর্মীদের মারধরের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। সোমবার অনেকটা একই ঘটনা ঘটে বোল্লার বাউল বাজারে। সেখানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর লাগানো হয় বিজেপির পতাকা। বিষয়টি সামনে আসতেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ওই পার্টি অফিস অবিলম্বে তৃণমূলকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আর এই কাজে উদ্যোগ নেন বিজেপির জেলা নেতা এবং বোল্লা মন্দিরের পুরোহিত গৌতম চক্রবর্তী।
কিন্তু নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে স্থানীয় বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। মঙ্গলবার সকাল থেকে তৃণমূলের একাধিক নেতাকে ফোন করে অফিসটি বুঝে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও কেউই সশরীরে উপস্থিত হতে রাজি হননি। এভাবেই বুধবার বিকেল কেটে যায়। শেষে এদিন সন্ধ্যায় বিজেপির বুথ সভাপতি শিসেন মহন্তর হস্তক্ষেপে দলীয় কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির যুব মোর্চার নেতা শুভজিৎ সরকার বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে তৃণমূলের অনেক নেতাকে ফোন করেছি। কিন্তু কেউ আসতে চাইছিলেন না। এমনকি বড় নেতা সুজিত নিয়োগীকেও ফোন করেছিলাম। তাঁর স্ত্রী শিপ্রা নিয়োগী জেলা পরিষদের কো-মেন্টর হলেও তিনিও আসেননি। শেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বুথ সভাপতিকে ডেকে এনে অফিস খুলে দিতে হয়েছে।’
অন্যদিকে, তৃণমূলের বুথ সভাপতি দেবাশিস সরকার স্বীকার করেছেন যে, তাঁকে ডেকে এনে অফিসটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন দলের অন্য নেতারা আসতে চাইছিলেন না, সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামণি বিহা এবারের নির্বাচনে তপন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি হেরেছেন। ফলপ্রকাশের পর থেকে তিনি তো বটেই, তৃণমূলের কোনও জেলা পরিষদের সদস্য বা কর্মাধ্যক্ষ কেউই আর অফিসে আসছেন না। জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালকেও দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ভবনের একদল কর্মী তৃণমূলের হয়ে অন্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সোমবারের পর থেকে তাঁদের দেখা যাচ্ছে না। গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রও অফিসমুখো হচ্ছেন না। বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি অফিসগুলো থাকছে ফাঁকা। কোথাও কোথাও প্রধানরা বুধবার সামান্য সময়ের জন্য পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে ফিরে যান।
