কোচবিহার: কোচবিহার পুরসভার (Cooch Behar Municipality Disaster) অন্দরে রাজনৈতিক নাটক যেন কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। চেয়ারম্যানকে (Chairman) সরাতে অনাস্থা প্রস্তাব আনার মাত্র দুদিনের মাথায় ঘটল চরম ভোলবদল। ভাইস চেয়ারম্যান আমিনা আহমেদ ও তিন কাউন্সিলার নিজেরাই নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করায় পুরসভার অন্দরে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। এর জেরে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়াও এখন কার্যত বিশবাঁও জলে চলে গিয়েছে।
নির্বাচনের পর থেকেই কোচবিহার পুরসভায় (Cooch Behar Municipality) ধারাবাহিক ডামাডোল ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার ভাইস চেয়ারম্যান আমিনা আহমেদ সহ মোট ১৩ জন কাউন্সিলার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন। সেই প্রবল চাপের মুখে পড়ে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেছিলেন চেয়ারম্যান। কাউন্সিলারদের একাংশের তীব্র আশা ছিল, তাঁদের মধ্য থেকেই নতুন চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া হবে। তবে পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিজেপির অন্দরের দুই বিপরীত অবস্থান—এক পক্ষ নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের পক্ষে এবং অন্য পক্ষ প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভা চালানোর পক্ষে সওয়াল করায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোরালো হয়ে ওঠে। এমনকি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শম্পা রায়ের বাড়িতে পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনাও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়।
এই চরম গোলমালের মধ্যেই বুধবার হঠাৎ করেই সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মায়া সাহা ও শুভ্রাংশু সাহা। পাশাপাশি, ভাইস চেয়ারম্যান আমিনা আহমেদ এবং ভুষণ সিংও পদত্যাগ করেন (যদিও ভুষণ মূল অনাস্থাপত্রে সই করেননি)। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের উত্তরে মায়া সাহা জানান, তাঁর স্বামী অসুস্থ ও ছেলের বড় অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি পারিবারিকভাবে ভীষণ ব্যস্ত। ১৬ বছর ধরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলানো আমিনা আহমেদের দাবি, পদ আঁকড়ে ধরে থেকে লাভ নেই ভেবে তিনি নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে কেউ কোনো চাপ দেননি। অন্যদিকে, ভুষণ সিংয়ের সাফ কথা, পুরসভার বর্তমান কোনো পরিকাঠামোই নেই। সাধারণ মানুষের ভোটের মর্যাদা দিয়ে যখন কাজই করা যাচ্ছে না, তখন পদে টিকে থেকে কোনো লাভ নেই।
কাউন্সিলারদের এই হঠকারী পদত্যাগের হিড়িকে কোচবিহার পুরসভার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। একদিকে প্রশাসনিক শূন্যতা আর অন্যদিকে নেপথ্যের তীব্র রাজনৈতিক রহস্যে পুর বোর্ডের অন্দরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

