উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজনৈতিক সংঘর্ষ আর বোমা-বারুদের ধোঁয়াই ছিল যাঁর পরিচয়, সেই ভাঙড় দেখল এক অন্য ছবি। বুধবার ভোটগ্রহণের দিন ভাঙড়ে না শোনা গেল বোমার শব্দ, না চলল গুলি। দীর্ঘ কয়েক দশক পর এমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখে কার্যত অবাক ভাঙড়বাসীও (Bhangar Vote Nawsad Siddiqui)। আর এই শান্ত আবহেই আইএসএফ (ISF) চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি ঘোষণা করলেন, এ বার তাঁর জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজার পার করবে।
এ দিন সকাল থেকেই ভাঙড়ের এক বুথ থেকে অন্য বুথে চষে বেড়ান নওশাদ সিদ্দিকি। হাতিশালা হাই মাদ্রাসার কাছে ভোটারদের মুখে চওড়া হাসি দেখে আশ্বস্ত হন তিনি। বহু ভোটার তাঁকে জানান, ১০ থেকে ১৫ বছর পর তাঁরা নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে পারলেন। নওশাদ বলেন, “এটাই আসল ভাঙড়। মানুষ আজ উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন।”
ভাঙড়-১ নম্বর ব্লকের কিছু এলাকায় তৃণমূল কর্মীরা নওশাদকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলেও তিনি মেজাজ হারাননি। উলটে মৃদু হেসে খোঁচা দিয়ে বলেন, “মারবে নাকি? তাহলে মারো দেখি দু’ঘা।” পরিস্থিতি অবশ্য বড় কোনো অশান্তির দিকে যায়নি। ক্যানিং পূর্বের শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ে প্রার্থী করা নিয়ে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের আশঙ্কা ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।
শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি তৃণমূলের একটি অংশকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন নওশাদ। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের একটা অংশ সত্যিই শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সহযোগিতা করেছেন।” তবে নাম না করে তিনি এও বলেন যে, কিছু রাজনীতির কারবারি নিজেদের স্বার্থে ভাঙড়কে কলুষিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু মানুষ আজ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
