উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম পে কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার। বুধবার অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে সপ্তম বেতন কমিশন (seventh Pay Fee) গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান শাসক দল তথা বিজেপি। কথা রাখতেই অবশেষে এই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
নবান্ন থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই পে কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন, ভাতা, ডিএ (DA) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে বর্তমান মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ কাঠামো খতিয়ে দেখে তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ট্রাভেল অ্যালাউয়েন্স বা যাতায়াত ভাতা, পেনশন সহ অন্যান্য অবসরকালীন স্কিম এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার বিষয়টিও এই কমিশনের আলোচনার পরিধিতে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় স্তরে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলেও এ রাজ্যের কর্মীরা এতদিন ষষ্ঠ পে কমিশনের নিয়মেই বেতন পাচ্ছিলেন।
সপ্তম পে কমিশন পুরোপুরি কার্যকর হলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন একলাফে অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রের কর্মচারীদের বেতনের যে বিরাট ব্যবধান এতদিন ধরে ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে। বাড়ির ভাড়া ভাতা (HRA), যাতায়াত ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সাধারণত পে কমিশনের মূল ভিত্তি ধরা হয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর-এর ওপর। সপ্তম পে কমিশনের ক্ষেত্রে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর মানা হলে, আগের পে কমিশনের তুলনায় মূল বেতন গড়ে প্রায় ২.৫৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কর্মীর বর্তমান বেসিক পে যদি ২০ হাজার টাকা হয়, তবে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ৫১ হাজার ৪০০ টাকা হতে পারে। পাশাপাশি, বর্তমানে ষষ্ঠ পে কমিশনের অধীনে রাজ্যের হারে যে ডিএ মিলছে, নতুন কমিশন লাগু হলে তা কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

