কোচবিহার: বিজেপির জেলা কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের নিয়ে একটি বেসরকারি হোটেলে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠল (Cooch Behar)। আর এই বৈঠকেরই একটি ভিডিও মঙ্গলবার রাত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জলদূরদূর পর্যন্ত গড়ালেও, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করার পরেই দলীয় স্তরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলা বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য শুভাশিস চৌধুরীর একটি ভিডিও মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচি করা হয়নি)। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, কোচবিহার শহর সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলে দেওয়ানহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার পাশাপাশি দু’জন সরকারি আধিকারিকও উপস্থিত রয়েছেন এবং সেখানে একটি বৈঠক চলছে।
অভিযোগ, ওই গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে বিজেপিরই অপর একটি গোষ্ঠীর কয়েকজন নেতাকর্মী আচমকা সেখানে গিয়ে হাজির হন। এর পরেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং বৈঠকটি কার্যত মাঝপথেই ভেস্তে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উপস্থিত অন্য বিজেপি কর্মীরা ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলছেন এবং বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই সরকারি আধিকারিককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানাচ্ছেন।
এই স্পর্শকাতর বিষয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা শুভাশিস চৌধুরীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, “ভিডিওটি আমিও দেখেছি। তবে সবার আগে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে ঠিক কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাও পরিষ্কারভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—দলের কেউ যদি কোনো অন্যায় বা দলীয় বিরোধী কাজ করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রকম অনিল বা আপোসকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

