শিবশংকর সূত্রধর,কোচবিহার: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দরুন পুড়ে গেল কোচবিহারের সুকান্ত মঞ্চের একাংশ। সোমবার সন্ধ্যায় পান্থশালা রোডে অবস্থিত সুকান্ত মঞ্চে আগুন লেগে যায়। দমকলের একটি ইঞ্জিন প্রায় ৩০মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরসভার অধীনে থাকা এই ভবনের ভেতরে কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এই বিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘মঞ্চের বেশি ক্ষতি হয়নি। একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানের জন্য ভবনের ভেতরে প্যাণ্ডেল তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই আগুন লেগেছিল।’
পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ওই ভবনে এনএফ রেলওয়ে পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৩৭তম কার্যকরী সমিতির বৈঠক ছিল। সে কারণেই সোমবার প্যাণ্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজ করা হয়েছিল। সন্ধ্যার আগেই কাজ করে কর্মীরা চলে যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর সন্ধ্যার দিকে ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী আগুনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দমকলকে খবর দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই কোচবিহার দমকলকেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল। আগুন নেভানোর পর দমকলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুখবিলাশ রায় বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে ভেতরে শর্টসার্কিট থেকে প্যাণ্ডেলের কাপড়ে আগুন লাগে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’ এদিন অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুকান্ত মঞ্চের সামনে ভিড় করেন তাঁরা। ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিল কিনা সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের জেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এনএফ রেলওয়ে পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার কীভাবে তাঁদের বৈঠক হবে তা নিয়ে চিন্তায় তাঁরা। তবে সংগঠনের কোচবিহার শাখার সম্পাদক নারায়ণ আমিনের বক্তব্য, ‘আমরা মঞ্চটিকে সাজিয়েছিলাম। সেটি পুড়ে গিয়েছে। ঘটনার সময় ভেতরে কেউ ছিল না। আমরা সুকান্ত মঞ্চেই বৈঠক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
