ফালাকাটা: দুষ্কৃতীরা যেমন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারে অপরাধমূলক কাজ করে ঠিক একই কায়দায় গ্রামে তাণ্ডব চালাল হাতির দল। হাতির ভয়ে গ্রামে অনেকেই বাড়ির বাইরে বালব জ্বালিয়ে রাখেন। আলো থাকায় সেই বাড়িতে ঢুকতে কিছুটা হলেও ভয় পায় গজরাজ। তাই এবার গাছ ফেলে ১১ হাজার কেভির বিদ্যুৎবাহী তারই ছিঁড়ে দিল হাতিরা। তারপর অন্ধকারে গ্রামে ঢুকে ঘর ভাঙল, জমির ফসল নষ্ট করল। সোমবার রাতে ফালাকাটার (Falakata) শিশাগোড় গ্রামে এমন ঘটনা গ্রামবাসীদের পাশাপাশি চিন্তা বাড়িয়েছে বন দপ্তরেরও। এজন্য ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। এভাবে গাছ ফেলে তার ছেঁড়ায় হাতিদেরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বন দপ্তর অবশ্য রাতেই ৪-৫টি হাতিকে জঙ্গলে ফেরায়।
জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, ‘ব্যাংডাকি বিটের জঙ্গল থেকেই হাতিগুলো গ্রামে ঢোকে। বিদ্যুৎবাহী তারে গাছ ফেলে দেয়। এটা হাতিদের প্রবণতা হলে, ব্যাপারটা সত্যিই বিপজ্জনক। তবে খবর পেয়ে দ্রুত বনকর্মীরা এলাকায় যান। হাতিগুলোকে জঙ্গলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি নিয়মে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
বন দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎবাহী তারের ক্ষেত্রে হাতিদের কিছুটা অভিজ্ঞতা রয়েছে। জঙ্গল ও গ্রামের সীমানায় অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক ফেন্সিং রয়েছে। সেক্ষেত্রে জঙ্গলের ছোট ছোট গাছ ভেঙে ফেন্সিংয়ের উপর ফেলে দেয় হাতি। সেই ফেন্সিং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফেন্সিংও ভেঙেও যায়। তারপর লোকালয়ে ঢুকে পড়ে হাতি। গত বছর ব্যাংডাকি বিটের যোগেন্দ্রনগর এলাকায় এরকম ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এবার লোকালয়ে ঢুকে বিদ্যুৎবাহী তারের ক্ষেত্রেও সেই কৌশল হাতির দল প্রয়োগ করল, যা বনকর্তাদের কাছেও চিন্তার বিষয়।
বংশীধরপুর গ্রাম হয়ে হাতিগুলো পারপাতলাখাওয়া গ্রামে ঢোকে। সেখান থেকে হাতির দল চলে আসে শিশাগোড় গ্রামে। এখানে এসে দেবেন বর্মনের বাড়ির পাশের এক ছোট জঙ্গলে দীর্ঘক্ষণ তারা দাঁড়িয়ে থাকে।
সেখান দিয়েই রয়েছে ফালাকাটা থেকে পলাশবাড়িগামী ১১ কেভির হাইটেনশন বৈদ্যুতিক তার। কিছু কলা গাছ ও অন্য ছোট কিছু গাছ ভেঙে তারের উপর ফেলে দেয় হাতির দল। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গোটা এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। এরপরই হাতিগুলো এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়।

