শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক সভা এড়ালেন রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় (Nagen Roy)। জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে আদৌ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, অন্য জনপ্রতিনিধিদের মতো তাঁকেও নাকি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিজেপির (BJP) রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায়। বাধ্য হয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তার আগেই অবশ্য তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁকে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নেতাজি ইস্যুতে সেই সময় কঠোর মনোভাব নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই কি শুভেন্দুর বৈঠক এড়ালেন নগেন্দ্র? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
পৃথক কোচবিহার রাজ্যের দাবিতে গ্রেটারের লাগাতার আন্দোলন নিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশ, বলার অধিকার সবার রয়েছে। কোচবিহার থেকে তিনজন প্রতিনিধি আমরা দিয়েছি। এখান থেকেই স্পিকার ও দুজন মন্ত্রী রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সচিবালয়, উত্তরকন্যায় স্বাগত। প্রয়োজনে আমি কোচবিহারে এসে কথা বলতেও রাজি। সব কথা বলে মিটিয়ে দেব। ওঁরা দু’হাত ভরে আমাদের ভোট দিয়েছেন। ওই ভোট পেয়েই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি।’
শুভেন্দু একথা বলার সময় নগেন্দ্রর নাম উল্লেখ করেননি। অথচ বিজেপির এই রাজ্যসভার সাংসদ গ্রেটারের আন্দোলনের অন্যতম নেতা। ফলে শুভেন্দু যে নগেন্দ্রকে এড়িয়ে গিয়েছেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এখানেও সূক্ষ্ম কূটনৈতিক চাল রয়েছে। নেতাজি ইস্যুকে বিজেপি যে ভালো চোখে নেয়নি, এদিন সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। নগেন্দ্র বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ হলেও বিজেপির সঙ্গে বহুদিন তাঁর ভালো সম্পর্ক নেই। বহুদিন তাঁকে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। কিন্তু পদে থাকার পরেও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের আমলে মুখ্যমন্ত্রীর সভাগুলিতে বরাবরই অনুপস্থিত থাকতেন বিরোধী বিধায়করা। তাঁদের আমন্ত্রণই জানানো হত না বলে অভিযোগ ছিল। তবে মঙ্গলবারের সভায় শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি এনসিপির সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মাবসুনিয়া ও তৃণমূলের বিধায়ক সংগীতা রায়ও হাজির ছিলেন। বিরোধীরা থাকলেও অনুপস্থিত থাকলেন শাসকদলেরই সাংসদ। যদিও এবিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা না তোলায় নগেন্দ্রর বক্তব্য মেলেনি।
গতকাল বহুদিন পর প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতা মিহির গোস্বামীকে। মদনমোহনবাড়িতে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। মিহির তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মিহিরকে ডেকে নিয়ে যান মন্দিরের ভেতরে। সেখানে একসঙ্গেই পুজো দেন।

