উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশের রাজধানী। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP Delhi protest)-র নেতৃত্বে যন্তরমন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের পাশাপাশি এবার আন্দোলনকারীদের দমনে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় ১৯ বছরের এক তরুণের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর উপক্রম হয়েছে বলে খবর। যদিও পেলেট গান ব্যবহারের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।
এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত তরুণের নাম সাহিল লোচব (১৯)। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির নাজাফগড়ের বাসিন্দা ওই তরুণ এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে পেলেট গানের আঘাতে গুরুতর জখম হন। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সে (AIIMS) তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, চোখে গুরুতর আঘাতের কারণে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ। শুধু সাহিল নন, এক সাংবাদিকও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পেলেট বা বুলেটের আঘাতে জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, সেখানে ভর্তি আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে পেলেট বা গুলির আঘাত মিলেছে। ২৫ বছরের শেখ ইরশাদ মনসুরি নামের এক যুবকের মুখ ও গলায় অস্ত্রোপচার করে বেশ কিছু পেলেট বের করা হয়েছে। সিআরপিএফ-এর অধীনস্থ দাঙ্গা দমন বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-কে এই বিক্ষোভস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। পেলেট গান সরাসরি পুলিশের অস্ত্রাগারে না থাকলেও আরএএফ-এর সরঞ্জামের মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও এবং ছবির (ভিডিও ও ছবির সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল, যেখানে আন্দোলনকারীদের শরীরে পেলেট আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গিয়েছে।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিজেপি (CJP) মুখপাত্র সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেলেট ব্যবহারের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। পুলিশের দাবি, তাদের কাছে কোনো পেলেট গান নেই এবং এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারও করা হয়নি।
উল্লেখ্য, পেলেট গান অতীতে জম্মু ও কাশ্মীর, মণিপুর এবং কৃষক আন্দোলনের সময়ও ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র থেকে নিক্ষিপ্ত ছোট ধাতব টুকরো মানুষের শরীরে মারাত্মক ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং এর জেরে স্থায়ী অন্ধত্ব বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে। যন্তরমন্তরের এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন থেকেই তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

