জুলাই মাসের গোড়া থেকেই নিট কেলেঙ্কারি-সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে ছাত্রসমাজ। শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বেই তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। গত সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘সংসদ অভিযান’ ঘিরে কার্যত কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানী দিল্লি। সময় যত এগচ্ছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি। ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি মহলের একাংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবুও ‘নীরব’ বিটাউনের বহু হাইপ্রোফাইল তারকা। ইন্ডাস্ট্রির এই ‘মৌনব্রত’ পালনে নিজের সতীর্থদেরই বিরোধীতায় বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।
অন্যদিকে দক্ষিণী অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ কমল হাসান মৃত পড়ুয়াদের জন্য দেশের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। বলিউডের ‘মৌনব্রত’ পালনের কঠোর সমালোচনা করে মুখে হাড় আঁকড়ে ধরা কুকুরের সঙ্গে তুলনা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করেননি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নাসিরুদ্দিন বলেন, “যখন ওঁদের বিবেক নীরব থাকতে বলবে তখন ওঁরা চুপ থাকবে। প্রবাদ আছে, একটা কুকুরের মুখে যখন হাড় থাকে তখন তো সে ঘেউ ঘেউ করতে পারে না। হাড়টা মুখ থেকে পড়ে গেলে বা সেই হাড়টা বা দাঁত ভেঙে যাচ্ছে ততক্ষণ সে মুখ বন্ধ রাখবে।”
আরও পড়ুন:

অন্যদের নীরবতার সুযোগ নিয়ে বাকিরাও সেই পথে হাঁটছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রবীণ অভিনেতার সংযোজন, “অবশ্যই হ্যাঁ। তবে কতদিন এই পথ অনুসরণ করে চলবেন সেটা তো সময়ই বলবে।” দক্ষিণী অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসান এক্স হ্যান্ডেলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন। সোশাল মিডিয়া পোস্টে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মৃত পড়ুয়াদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করে দেশের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন।

সোনম ওয়াংচুককে আহ্বান জানিয়ে ও পড়ুয়াদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, ‘একজন পড়ুয়া যখন প্রথম কেঁদেছিল তখনই আমাদের তার কথা শোনা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করেছি যতক্ষণ না আমাদের অসংখ্য সন্তান প্রাণ হারিয়েছে। যে শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে কোচিং সেন্টারের দখলে, কৌতূহলের বদলে শুধুই উদ্বেগ, আর মেধার জায়গায় অপরাধ সেই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পচে গিয়েছে। পড়ুয়াদের প্রশ্নের জবাবের বদলে ব্যারিকেড ও লাঠিচার্জ দিয়ে মোকাবিলা করা হয় সে দেশ প্রকৃত অর্থে দায়িত্বপালনে ব্যর্থ।’
We should always have listened when one youngster cried.
As an alternative, we waited till far too a lot of our kids died.
A system the place teaching replaces studying, nervousness replaces curiosity, and criminality replaces benefit is rotten.
A nation has failed when its kids are met with…
— Kamal Haasan (@ikamalhaasan) July 23, 2026
সোনম ওয়াংচুককে ট্যাগ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আগামী দিনের পথচলায় আপনার বিবেক ও নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে। অনুগ্রহ করে অনশন প্রত্যাহার করুন।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংযোজন, ‘তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালন করেছ। এবার দেশের দায়িত্ব তোমাদের প্রতি তার কর্তব্য পালন করা। তোমাদের স্বপ্ন যেন সবসময় আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে অনেক বড় হয়।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
