উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit)। শুক্রবার শুরু হওয়া এই মেগা সামিট চলবে আগামী রবিবার পর্যন্ত। তবে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের সভাপতিত্বে তৈরি বিশেষ ‘ব্রিকস ইন্ডিয়া লোগো’ (BRICS Emblem)। বহুবর্ণের একটি পদ্মফুলের মাঝে ঐতিহ্যবাহী ‘নমস্কার’ মুদ্রার নকশা ফুটিয়ে তুলে তৈরি এই লোগোটি ইতিমধ্যেই বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর একটি উন্মুক্ত ডিজাইন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই লোগোটি জনসাধারণের সামনে আনেন। ভারতীয় ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণে তৈরি এই লোগোটি ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলির সম্মিলিত শক্তি ও ঐক্যের প্রতীক। এই লোগোর বিভিন্ন উপাদানের তাৎপর্যও অত্যন্ত গভীর। লোগোর ঠিক কেন্দ্রস্থলে থাকা ‘নমস্কার’ বা হাতজোড় করার ভঙ্গিটি ভারতের চিরন্তন উষ্ণতা, অন্তর্ভুক্তি, সম্মান, আতিথেয়তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাবকে ফুটিয়ে তোলে। পাশাপাশি, লোগোর মূল কাঠামোটি ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মের আদলে তৈরি, যা মূলত স্থিতিস্থাপকতা এবং শাশ্বত শান্তির প্রতীক। এছাড়া পদ্মের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা রঙিন পাপড়িগুলি ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলির জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে। এই রঙিন পাপড়িগুলি বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, সমতা এবং বর্ধিত ব্রিকস গোষ্ঠীর সম্মিলিত শক্তির কথাই বলে।
এদিকে, ব্রিকস সামিটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো রাজধানী দিল্লি (Delhi)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) ব্যস্ততম কূটনৈতিক সূচির মধ্যেই দিল্লিতে পা রেখেছেন একাধিক বিশ্বনেতা। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোব সুবিয়ান্তর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন মোদি।
বিদেশি অতিথিদের সুরক্ষায় রাজধানীতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৩০,০০০ নিরাপত্তা কর্মী। যার মধ্যে রয়েছে ১৫,০০০ দিল্লি পুলিশ ও ২০০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী। ভারত মণ্ডপম সহ গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল ১৪টি কৌশলগত স্থানে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ইনস্টল করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং সম্মেলনের ভেন্যু পর্যন্ত আকাশপথেও চলছে কঠোর নজরদারি। সবমিলিয়ে, এই মেগা সামিট শুধু রাজনৈতিক কূটনীতিই নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিরও এক অনন্য বিশ্বমঞ্চ হয়ে উঠেছে।

