Bonded Labor Rescue | আলিপুরদুয়ার হিমঘরে পুলিশ ও শ্রম দপ্তরের যৌথ অভিযান, উদ্ধার বন্ধকী ও নাবালক সহ ৩ শ্রমিক  

শিক্ষা
Spread the love


শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শালকুমার মোড়ের একটি বেসরকারি হিমঘরে অভিযান চালিয়ে এক বন্ধকী শ্রমিক (Bonded Labor Rescue) এবং দুই নাবালক শ্রমিককে উদ্ধার করল জেলা পুলিশ প্রশাসন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ, শ্রম দপ্তর এবং চাইল্ড হেল্পলাইন ইউনিটের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এই অভিযান চালান। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বন্ধকী শ্রমিকের নাম কালীপদ মণ্ডল (৪৯) এবং অপর দুই নাবালক শ্রমিকের বয়স ষোলো বছর। তিনজনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, কাজের লোভ দেখিয়ে বা অগ্রিম টাকা দিয়ে সুদূর সুন্দরবন থেকে ওই শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু দিনের পর দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও সেই অগ্রিম টাকা আর শোধ হত না এবং শ্রমিকদের কোনো স্বাধীনতাও ছিল না। নামমাত্র মজুরিতে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো তাঁদের।

অভিযোগের বিষয়ে হিমঘরের ম্যানেজার সঞ্জয় ঘোষ দাবি করেছেন, শ্রমিকদের সমস্ত দায়ভার সর্দার বা ঠিকাদারদের। সর্দারদের মাধ্যমেই তাঁদের মজুরি ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে নাবালক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে যে বয়স যাচাই করা হয়নি, তা তাঁদের ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। অন্যদিকে, শ্রমিকদের সর্দারদের বক্তব্য, পারিবারিক অসুবিধার কারণেই শ্রমিকদের কিছু নগদ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কাউকে জোর করে অতিরিক্ত কাজ করানো হয় না এবং দুই নাবালক পেটের দায়েই কাজে যোগ দিয়েছিল। যদিও প্রশাসনের আধিকারিকরা এই সমস্ত যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন।

সোনাপুর ফাঁড়ির ওসি রতন বর্মন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া এক বন্ধকী শ্রমিক ও দুই নাবালককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) মাধ্যমে ওই দুই নাবালককে জলপাইগুড়ির কোরক হোমে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় হিমঘর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রের শিকড় সন্ধান করতে বর্তমানে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *