হরিশ্চন্দ্রপুর: গভীর রাতে মালদার (Malda) হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) সদর এলাকায় বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক তথা এলাকার প্রাক্তন উপপ্রধান রূপেশ আগরওয়ালের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। বেধড়ক মারধর করে ফাটিয়ে দেওয়া হলো তাঁর মাথা। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা হরিশ্চন্দ্রপুরে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই গতকাল রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মার্কেটের একটি দোকানে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন রূপেশবাবু। তিনি যখন দোকানে বসে রুটি-তরকারি খাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় আচমকা বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর ওপর পিছন থেকে চড়াও হয়। অভিযোগ, রূপেশকে ওই দোকান থেকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বের করে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। ফাটিয়ে দেওয়া হয় তাঁর মাথা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্য বিজেপি (BJP) কর্মীরা ছুটে এলে আক্রমণকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই হামলার নেপথ্যে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ ও দলবদলের এক চাঞ্চল্যকর তত্ত্ব উঠে আসছে। রূপেশ অনুগামী বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এলাকার একদা জমি দখল ও তোলাবাজিতে যুক্ত থাকা বেশকিছু তৃণমূল কর্মী ও নেতা রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এখন গা বাঁচাতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার ইতিমধ্যে বিজেপিতে চলেও এসেছে।
তৃণমূলের এই ‘দুষ্কৃতী’দের দলে ঢোকানো এবং পুনর্বাসন দেওয়ার বিরুদ্ধে দলের অন্দরে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন স্পষ্টবক্তা রূপেশ আগরওয়াল। দলবদলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনের আগে থেকেই দলের অন্দরে বিবাদ চলছিল। আর সেই পুরোনো আক্রোশের জেরেই গতকাল রাতে পরিকল্পনা করে জেলা সাধারণ সম্পাদকের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় চারজন অভিযুক্তের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।
