উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বৃষ্টির মধ্যেও খড়দহ থানার বাইরে উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। আরজি করের নির্যাতিতার ‘তড়িঘড়ি সৎকার’ কাণ্ডে ধৃত খড়দহের প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে থানায় আনা হয়েছে খবর পেতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ (RG Kar Cremation Case)। পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা ডিমের পাশাপাশি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। শেষ পর্যন্ত মাথায় হেলমেট পরিয়ে ধৃতকে প্রিজন ভ্যানে তুলে ব্যারাকপুর আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনার পর নির্যাতিতার মৃতদেহ তড়িঘড়ি সৎকার করা নিয়ে খড়দহ থানায় নতুন করে মামলা রুজু হয়। ওই মামলায় এর আগে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাঁরা বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তবে এতদিন পলাতক ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে বৃহস্পতিবার কর্নাটক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার কাকভোরে তাঁকে বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় এবং দুপুরে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার তোড়জোড় চলছিল।
শুক্রবার সোমনাথকে খড়দহ থানায় রাখা হয়েছে জানতে পেরে সকাল থেকেই থানার বাইরে বিক্ষোভ জমায়েত হতে শুরু করে। এর আগে অপর দুই ধৃত নির্মল ও সঞ্জীবকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়েও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল এবং সেই সময় জখম হওয়া সঞ্জীবের চোখে অস্ত্রোপচারও করতে হয়। এ দিন সোমনাথের ওপর যাতে কোনও হামলা না হয়, সে জন্য তাঁর মাথায় বাইকের হেলমেট পরিয়ে দ্রুত গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সেই নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম ও ইটের বৃষ্টি শুরু করে। বেশ কিছু ইট গিয়ে লাগে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের গায়ে। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় শেষ পর্যন্ত ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং দ্রুত সৎকার করার অভিযোগে সোমনাথকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ।

