প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ভিন রাজ্যে পালিয়েও মিলল না রেহাই। বর্ধমান (Bardhaman) দক্ষিণের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল (TMC) নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসকে (Khokon Das) উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়ার মামলার তদন্তে নেমে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ উত্তর প্রদেশের হাণ্ডিয়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় খোকন দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে রবিবার প্রয়াগরাজ আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার জন্য আবেদন করেছে তদন্তকারীরা।
তবে শুধু খোকন দাসই নয়, এদিন পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এবং কালনা-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রণব রায়কেও পুলিশ পাকড়াও করছে। উল্লেখ্য, বাড়িতে প্রচুর সরকারী ত্রিপল সহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী ও ক্রীড়া সামগ্রী মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল তপন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন সাতসকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ও বাড়ি লাগোয়া কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে সরকারী লোগো সম্বলিত ৪৫৫টি ত্রিপল, প্রচুর ফুটবল, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়। এই উদ্ধার কাজ চলার সময় তপন চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে ‘চোর—চোর’ স্লোগান দিতে দেখা যায় স্থানীয় মানুষদের।
শনিবারই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ এনে কালনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ এবং বিশ্বনাথ দত্ত নামে এলাকার দুই বাসিন্দা। এই দুই বাসিন্দার অভিযোগ, শুধু সরকারী দ্রব্য সামগ্রী নিজের বাড়িতে মজুত করে রাখাই নয়, বিধায়ক থাকাকালীন তপন চট্টোপাধ্যায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাগামছাড়া দুর্নীতিও করেছেন। সেই অভিযোগের কপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা পুলিশ সুপারকেও পাঠিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারীরা। এহেন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এদিনই তপন চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করে। বিচারক তপন চট্টোপাধ্যায়কে ৩ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। তপনবাবু অবশ্য দাবি করেছেন যে, তিনি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। এই ঘটনা প্রসঙ্গে পূর্বস্থলী উত্তরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে।’
অপরদিকে কালনা-২ ব্লকের সিঙ্গেরকোন এলাকায় থাকা তৃণমূলের পার্টি অফিসে প্রচুর ত্রিপল সহ অন্যান্য সরকারী ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখার অভিযোগ ওঠে দলের ব্লক সভাপতি প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এদিন বিকালে ওই পার্টি অফিসে অভিযান চালায় এবং সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ প্রণব রায়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। একই দিনে তৃণমূলের ৩ নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যাক্তির এইভাবে পুলিশের জালে বন্দি হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে।
