শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকায় দুটি পৃথক ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খড়িবাড়ি সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিকের গ্রেপ্তার (Bangladeshi Arrest) এবং আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের তদন্তে প্রাক্তন এক পুলিশ আধিকারিকের গ্রেপ্তার—এই দুই ঘটনায় উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কি সংলগ্ন ইন্দো-নেপাল সীমান্তে। টহলরত এসএসবি (SSB) জওয়ানরা সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে। তল্লাশিতে ধৃতের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও ভিসা পাওয়া গেলেও দেখা যায়, ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ধৃতের নাম মহাম্মদ মুক্তার হুসেন (৩৬), বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ২০২৩ সালে ভারতে এসেছিল। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সে কলকাতা হয়ে নেপালে গিয়ে কাজ করছিল। জেরায় সে জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর পেয়ে সে পুনরায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। খড়িবাড়ি থানার পুলিশ ফরেনার্স অ্যাক্ট ও পাসপোর্ট অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ তাকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের সাথে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের তদন্তে নেমে প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা রবি দেওলিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার তাকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে, এর পেছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে।”
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নারী পাচার সংক্রান্ত একটি বিশাল চক্রের হদিশ মিলেছে। এই চক্রের সাথে প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। আপাতত দুটি ঘটনাই পুলিশি তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রেখেছেন সকলেই।
