Balurghat | রাজনীতির ময়দানে ‘মোদির ঝালমুড়ি’, আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও ভাগ্যের পরিবর্তনের অপেক্ষায় বিক্রেতারা

Balurghat | রাজনীতির ময়দানে ‘মোদির ঝালমুড়ি’, আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও ভাগ্যের পরিবর্তনের অপেক্ষায় বিক্রেতারা

শিক্ষা
Spread the love


পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: বিজেপির জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘মোদির ঝালমুড়ি’। বিজয় উৎসবেও বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে ঝালমুড়ি বিলি করতে। এমনকি বালুরঘাটের (Balurghat) নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় জেলা আদালতে গিয়ে সহকর্মী, আইনজীবী এবং সাধারণকে ঝালমুড়ি খাইয়ে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন। আচমকাই যেন শহরের চায়ের আড্ডা থেকে বাজার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ঝালমুড়ি। তবে শহরের কয়েকজন ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এত আলোচনা হলেও তাঁদের বিক্রিবাটায় এখনও বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।

যদিও ভোটগণনার দিন অবশ্য অন্য ছবি দেখা গিয়েছিল। বালুরঘাট কলেজে গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিজেপির নেতা-কর্মীরা প্রচুর পরিমাণে ঝালমুড়ি কিনে সাধারণের মধ্যে বিলি করেন। সেদিন ব্যবসা বেশ ভালো হয়েছিল বলে জানান বিক্রেতারা। কিন্তু তারপর থেকে পরিস্থিতি আবার আগের মতো। তা সত্ত্বেও ঝালমুড়ি নিয়ে নতুন এই উন্মাদনাকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথায়, আলোচনায় আসায় অন্তত তাঁদের পেশার দিকে মানুষের নজর পড়ছে।

বালুরঘাট থানা মোড়ের ঝালমুড়ি বিক্রেতা গৌতম মণ্ডল দীর্ঘদিন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই তাঁর দোকানে ভিড় বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার পরে সেই ভিড় আরও বাড়ে। গৌতম বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে ঝালমুড়ি খাওয়ার পরে বিষয়টা নিয়ে মানুষ অনেক বেশি আলোচনা করছেন। অনেকেই দোকানে এসে সেই প্রসঙ্গ তুলছেন। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ‘মোদিজির পছন্দের ঝালমুড়ি দিন।’ তবে তাতে বিক্রি যে হঠাৎ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে, তা নয়।’’

তিনি জানান, তাঁরা যেহেতু রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন সেকারণে অনেকসময় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। লাইসেন্স বা সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা সুবিধা হত। ছোট ঋণের ব্যবস্থাও দরকার।

মঙ্গলপুরের আরেক ঝালমুড়ি বিক্রেতা সঞ্জয় সরকারের বক্তব্যও প্রায় একই। তিনি বলেন, ‘মোদিজি ঝালমুড়ি খেয়েছেন বলেই যে দলে দলে মানুষ এসে ঝালমুড়ি কিনছেন, তা নয়। তবে আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে এখন ঝালমুড়ি খেতে এসে সেই ছবি বা ভিডিওর কথা বলছেন। আমাদের আশা, সরকার ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক দিকটা দেখবে।’

সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল কম নেই। বালুরঘাট কলেজের পড়ুয়া সৌরভ সাহা বলেন, ‘‘সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খেতে দেখার পরে বিষয়টা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে খুব আলোচনা হয়েছে। এখন অনেকে মজা করে ঝালমুড়িকে ‘ভিআইপি খাবার’ বলছে। তাই বন্ধুরা মিলে খেতেও আসছি।’’ অন্যদিকে, নিউটাউনের মধুমিতা পাল মনে করেন, শুধু আলোচনা বা প্রচার নয়, এই ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি সাহায্যও জরুরি।

রাজনৈতিক আবহে ঝালমুড়ি এখন নতুন প্রতীকের মতো উঠে এলেও, শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চাওয়া কিন্তু খুব সাধারণ। একটু আর্থিক নিরাপত্তা, ব্যবসার উন্নতির সুযোগ এবং স্থায়ী রোজগারের নিশ্চয়তা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *